কলকাতা মেডিক্যালে মানসিক রোগীর তাণ্ডবে ওপিডিতে আতঙ্ক। নিরাপত্তা নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন।

শেষ আপডেট: 4 April 2026 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার দুপুরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের (Kolkata Medical College) ব্যস্ত সময়। রোগীর ভিড়ে ঠাসা আউটডোর (OPD)। অপেক্ষা, উদ্বেগ আর চিকিৎসার আশায় ভরসা নিয়ে বসে থাকা মানুষজন। হঠাৎ সেই চেনা দৃশ্যটাই বদলে গেল আতঙ্কে। জেনারেল ওপিডিতে আচমকাই শুরু হয় তাণ্ডব।
চোখের সামনে ভাঙচুর, চিৎকার, দৌড়ঝাঁপ—এক মুহূর্তে যেন হাসপাতাল পরিণত হয় অস্থির এক মঞ্চে।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ও উপাধ্যক্ষ ডা. অঞ্জন অধিকারী জানান, ২২ বছর বয়সি এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ খাচ্ছিল। তবে সবে ইদ গিয়েছে, তাই রোজা রাখার জন্য টানা এক মাস সকালের ওষুধ খায়নি। শুধু রাতের ওষুধই খেয়েছে। নির্জলা উপবাস করতে গিয়েই বিপদ ঘটে।
এই ধরনের সমস্যায় নিয়মিত ওষুধ না খেলে হঠাৎ করেই অসুখ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে। সেদিন ওপিডিতে এসে হঠাৎই তাঁর সমস্যা ট্রিগার করে। তারপর উন্মাদের মতো ছোটাছুটি করতে শুরু করে সে, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে এবং অনেক রোগী ও তাঁদের পরিবার-পরিজনের উপর হঠাৎ করেই মারধর শুরু করে। মুহূর্তে পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। তার আচরণ এতটাই হঠাৎ এবং অপ্রত্যাশিত ছিল যে, উপস্থিত রোগী, তাঁদের পরিবার এবং হাসপাতালের কর্মীরা কিছুক্ষণের জন্য দিশেহারা হয়ে পড়েন।
জানা গেছে, ওপিডিতে তখন ভিড় ছিল যথেষ্ট। ঘটনার আকস্মিকতায় অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে শুরু করেন। দ্রুত রোগীদের প্রথম তলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কেউ সিঁড়ির দিকে, কেউ করিডোরে— যেদিকে পারছেন, সেদিকেই আশ্রয় খুঁজেছেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “হাসপাতালে এমন দৃশ্য আগে দেখিনি। কে কোথায় যাবে বুঝে উঠতে পারছিলেন না কেউ।”
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, এই ধরনের মানসিক সমস্যায় ওষুধ না খাওয়া যে কোনও সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই নিয়ম করে ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। উপবাসের সঙ্গে আপস করা গেলেও ওষুধের ক্ষেত্রে কখনই একবিন্দু আপস করা উচিত নয়।
চিকিৎসকদের ধারণা, রোগীর আচরণ আচমকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পিছনে ওষুধের ডোজের প্রভাব থাকতে পারে। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি নিয়মিত ওষুধ নিতে চাইতেন না।
শনিবার তিনি আউটডোরে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকেরা তাঁকে ভর্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আচরণে অস্বাভাবিকতা বাড়তে থাকে এবং শেষমেশ তা বিস্ফোরণের মতো প্রকাশ পায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সক্রিয় হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তারক্ষীরা প্রথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও আউটপোস্টের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে ইঞ্জেকশন দেন, যাতে তাঁর উত্তেজনা কমানো যায়। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টার পর অবশেষে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। এখন রোগীও অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মনোরোগীদের ক্ষেত্রে আরও কড়া নজরদারি এবং পৃথক নিরাপত্তা প্রটোকল থাকা জরুরি। কারণ এই ধরনের আচরণ অনেক সময় পূর্বাভাস ছাড়াই ঘটতে পারে।
এই ঘটনা আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও, রেখে গেল অস্বস্তির ছাপ। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর মেরামত না হলে, ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।