দক্ষিণ কলকাতার কসবা থানা এলাকার রাজডাঙা গোল্ড পার্ক থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিলেছে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 18 June 2025 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ কলকাতার কসবা থানা (Kasba Death Case) এলাকার রাজডাঙা গোল্ড পার্ক থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রাথমিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭০ বছরের বৃদ্ধ, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে—‘আমরা ঈশ্বরের কাছে নিজেদের সমর্পণ করছি।’
মৃতেরা হলেন সরজিৎ ভট্টাচার্য (৭০), তাঁর স্ত্রী গার্গী ভট্টাচার্য (৬৮) এবং তাঁদের ছেলে আয়ুষ্মান ভট্টাচার্য (৩৮)। পুলিশ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে ওই আবাসনের তিন তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকায় প্রতিবেশীরা কসবা থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দেখে ফ্ল্যাট ভিতর থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তারা তিনটি ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?
ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে, তিন জনেরই মৃত্যু হয়েছে ঝুলে পড়ার কারণে। তাঁদের গলায় অবিচ্ছিন্ন দাগ রয়েছে। শরীরের অন্য কোথাও কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।
কী কারণে আত্মঘাতী?
পুলিশ সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সঙ্কটে ভুগছিল ভট্টাচার্য পরিবার। তবে সুইসাইড নোটে আর্থিক সমস্যার উল্লেখ নেই। সেখানে লেখা রয়েছে, “আমরা স্বেচ্ছায় পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি, ঈশ্বরের কাছে নিজেদের সমর্পণ করছি।” শেষ ইচ্ছা হিসাবে তিন জনকে একসঙ্গে একই স্থানে দাহ করার আবেদন জানানো হয়েছে নোটে।
তদন্তে কী উঠে এল?
পুলিশ জানিয়েছে, সরজিৎ ভট্টাচার্য জমি ও বাড়ি কেনাবেচার দালালির কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, তিনি ও তাঁর ছেলে বাড়ির বাইরে খুব একটা যেতেন না। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আয়ুষ্মান টেনে টেনে হাঁটতেন, তাঁর কোনও শারীরিক অসুস্থতা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরনো ঘটনার ছায়া?
এই ঘটনার পর ট্যাংরা কাণ্ডের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। কিছু মাস আগে ট্যাংরার একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেখানেও আত্মহত্যার পূর্বাভাস মিলেছিল। ঘটনার তদন্তে কসবা থানার পুলিশ আধিকারিকরা বিভিন্ন সম্ভাবনার দিক খতিয়ে দেখছেন। সুইসাইড নোট হাতের লেখার মিল, পারিবারিক আর্থিক তথ্য, ও প্রতিবেশীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে।