
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
শেষ আপডেট: 18 May 2024 16:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীর খুবই অসুস্থ। ক্রমশ স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। জেলের বাইরে অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন। ফের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনের আবেদন করলেন রেশন বণ্টন দুর্নীতির মামলায় ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
শনিবার জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালু মল্লিকের জামিনের আবেদনের শুনানি ছিল। সেখানেই ইডির বিশেষ আদালতে জ্যোতিপ্রিয়র আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলের ওজন কমেছে। একাধিক রোগে ভুগছেন তিনি। কিডনির অবস্থা ভালো নয়। জেলের বাইরে তাঁর যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। তাই অন্তত এক মাসের জন্য তাঁকে ছাড়া হোক।
অন্যদিকে জ্যোতিপ্রিয়র জামিনের বিরোধিতা করে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফের আইনজীবী সওয়াল করেন, রেশন দুর্নীতির সঙ্গে যে সরাসরি যুক্ত প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তার তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তাই তাঁকে ছাড়া হলে সমগ্র তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। আগামী মঙ্গলবার এই বিষয়ে রায় দেবেন বিচারক।
দীর্ঘদিন সুগার এবং প্রেশার জনিত সমস্যায় ভুগছেন জ্যাতিপ্রিয়। তার উপর গ্রীষ্মের দাবদাহে জেলে হাঁসফাঁস অবস্থা। জেল সূত্রে খবর, আপাতত জেলের সেলের মধ্যেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। দফায় দফায় চিকিৎসকরা এসে দেখে যাচ্ছেন তাঁকে। প্রাক্তন মন্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও, খুব একটা স্থিতিশীলও নয়।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাইপারগ্লাইসেমিয়া রয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা যখন-তখন বাড়তে পারে। সাধারণত রক্তে শর্করার পরিমাণ ১১.১ মিলিলিটারের চেয়ে বেশি হলে ‘হাইপারগ্লাইসেমিয়া’ অবস্থা তৈরি হয়। আর তখনই বাড়ে স্ট্রোকের আশঙ্কা। অনেক সময় দেখা যায়, প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও উদ্বেগে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে। অতিরিক্ত স্ট্রেস বাড়িয়ে দিতে পারে দেহের কর্টিসোল ও অ্যাড্রিনালিন হরমোন ক্ষরণের মাত্রা। এই হরমোনগুলির ভারসাম্য নষ্ট হলেও রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া কিডনির অসুখ আগেই ছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের।
রেশন দুর্নীতি মামলায় আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি ইডির আধিকারিকদের। সেই দুর্নীতির তদন্তে নেমেই গত বছরের ২৭ অক্টোবর মাঝরাতে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বাড়িতে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ৩টে নাগাদ তৎকালীন মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। রেশন দুর্নীতি মামলায় এক আটাকল মালিক বাকিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পরই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম সামনে আসে। এরই মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়ার পর চিকিৎসার কারণে দীর্ঘদিন এসএসকেএম হাসপাতালে ছিলেন বালু। সেখান থেকে তাঁর ঠিকানা এখন প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার। কিন্তু সেখানে তাঁর যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এর আগেও জেলে বালুর চিকিৎসা হচ্ছে না বলে দাবি জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। অসুস্থতার প্রেক্ষাপটেই জামিন চেয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি আদালত।