সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, আইসোলেশন বেড, খাবার নেই, বাঁচব তো!', বাড়ি ফেরার আর্জি ম্যানিলার কয়েকশো ভারতীয় পড়ুয়ার
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “দু’রাত বিমানবন্দরে কাটিয়েছি। আমরা বাড়ি ফিরতে চাই। প্রাণের ভয় পাচ্ছি,” কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কাতর আর্জি ম্যানিলায় আটকে পড়া ভারতীয় পড়ুয়াদের। রবিবার রাত থেকেই আন্তর্জাতিক উড়ানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। ফলে ওই দিন রাতে
শেষ আপডেট: 23 March 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “দু’রাত বিমানবন্দরে কাটিয়েছি। আমরা বাড়ি ফিরতে চাই। প্রাণের ভয় পাচ্ছি,” কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কাতর আর্জি ম্যানিলায় আটকে পড়া ভারতীয় পড়ুয়াদের। রবিবার রাত থেকেই আন্তর্জাতিক উড়ানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ভারত। ফলে ওই দিন রাতে যাঁদের দেশে ফেরার বিমান ধরার কথা ছিল, সকলেই আটকে পড়েন ম্যানিলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বাতিল হয় সমস্ত উড়ান। প্রায় দু’রাত বিমানবন্দরে অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে সকলেই ফিরে গেছেন নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টে। টুইটার, ফেসবুকে লাইভ করে অনেক পড়ুয়াই দেশে ফিরে আসার আর্জি জানিয়েছেন সরকারকে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে ফিলিপিন্সেও। এখনও অবধি ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২৫। সংক্রামিত অন্তত ৩৮০। বেসরকারি সূত্রে এই সংখ্যা আরও বেশি। ম্যানিলায় অনেক ভারতীয়ের বাস। বেশিরভাগই পড়ুয়া। মেট্রো ম্যানিলার ইউনিভার্সিটি অব পারপেচুয়াল হেল্পের পড়ুয়া দিব্যেশ কেকানে বলেছেন, “এক সপ্তাহ আগেই লকডাউন চালু হয়েছে। কিন্তু তাতে সংক্রমণ আরও বেশি ছড়িয়েছে। আমার অ্যাপার্টমেন্টেই একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত। তাঁকে আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা নেই।”
একই অভিজ্ঞতা আরও অনেক পড়ুয়ার। “রাত ৮টা থেকে সকাল ৫টা অবধি কার্ফু চলছে। এর পরের সময়টা একজন করে বাইরে বার হওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। যার কারণে সুপারমার্কেট, দোকান-বাজারে পৌঁছবার আগেই জিনিসপত্র শেষ হয়ে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও অমিল এখানে, ” বলেছেন এমএ স্কুল অব মেডিসিনের পড়ুয়া সচিন পাতিল।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, দোকান-বাজার প্রায় বন্ধ, চিকিৎসার সরঞ্জামের দাম আগুন। মাস্ক, স্যানিটাইজার মিলছে না। তার উপর সংক্রমণের ভয় আরও চেপে বসছে। রক্ত পরীক্ষা করাতে গেলেও গাঁটের কড়ি খরচ করতে হবে। সেই খরচও অনেক।
মিলানের এক ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল ছাত্রী সিমরান গুপ্তা বলেছেন, “সরকারের অসুবিধার কথা আমরা বুঝতে পারছি। তবে আমরা কথা দিচ্ছি দেশে ফিরলেও স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে থাকব। স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাব। দয়া করে আমাদের উদ্ধার করা হোক।”
মিলানের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, অন্তত ১৬ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া ছড়িয়ে আছে ফিলিপিন্সে। বেশিরভাগই মেডিক্যালের ছাত্রছাত্রী। অনেক পড়ুয়াই দেশে ফেরার আবেদন জানিয়েছেন। তবে ফিলিন্সের সরকারের সঙ্গে ভারতের কথা হয়েছে। ভারতীয় পড়ুয়ারা যাতে সমস্যায় না পড়েন সে ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে সে দেশের সরকার।
তবে আশ্বাসেও আতঙ্ক কমেনি। অনেক পড়ুয়ারই দাবি, ইউনিভার্সিটিতে কোয়ারেন্টাইনের জায়গা কম। ২৫ জন করে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। দুটো বেডে পাঁচজনকে থাকতে হচ্ছে। এইভাবে সংক্রমণ আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে।