প্রতিদিন দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে গড়ে ১৬ ঘণ্টা পাম্প চালিয়ে প্রায় সাড়ে ছ’কোটি লিটার জল তোলা হয়। এর মধ্যে শুধু বাঁকুড়া শহরেই পৌঁছয় প্রায় দেড় কোটি লিটার জল। এই জলেই নির্ভর করেন বাঁকুড়া-১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুর ব্যারাজে (Durgapur Barrage) জলের স্তর বাড়লেই বড়জোড়া প্রকল্পের ইনটেক প্ল্যান্টে ভেসে আসে কচুরি পানা (kachuri pana)। ফল, বারবার ব্যাহত হচ্ছে জল উত্তোলন (Water Supply)। সেই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বাঁকুড়া শহর ও আশপাশে আর্সেনিকমুক্ত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ।
এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার উদ্যোগী হয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর (পিএইচই)। প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার এক বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়ে ব্যারাজের ইনটেক প্ল্যান্ট এলাকায় লোহার খাঁচা ও তারের জাল ঘেরা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে (Iron cages)।
দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জলাধারের তলদেশে কংক্রিটের গাঁথনির উপর বসানো হবে ঘন লোহার জাল। ওই জাল ভেদ করে পাইপের মুখে যাতে কচুরি পানা বা আবর্জনা ঢুকতে না পারে, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। এতে পাম্পের সাহায্যে জল তোলার কাজ হবে নির্বিঘ্নে।
পিএইচই-র বাঁকুড়া ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ঋতম ভট্টাচার্য বলেন, “প্রতিবার কচুরি পানা জমে পাইপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। পাম্প চালানো যায় না। জলের জোগান বিঘ্নিত হয়। ফলে পুরো প্রকল্পেই প্রভাব পড়ে। এখন পাইপের মুখ লোহার খাঁচা দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ শুরু হচ্ছে। এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।”
দফতর সূত্রে খবর, প্রতিদিন দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে গড়ে ১৬ ঘণ্টা পাম্প চালিয়ে প্রায় সাড়ে ছ’কোটি লিটার জল তোলা হয়। এর মধ্যে শুধু বাঁকুড়া শহরেই পৌঁছয় প্রায় দেড় কোটি লিটার জল। এই জলেই নির্ভর করেন বাঁকুড়া-১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা।
কিন্তু কচুরি পানা জমে গেলে সেই জোগান হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ডুবুরি নামিয়ে কচুরি পানা পরিষ্কার না করা পর্যন্ত বন্ধ থাকে ইনটেক প্ল্যান্ট। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শহরবাসী।
গত বছর পুজোর সময়ও এমনই এক ঘটনায় বিপাকে পড়েছিল গোটা বাঁকুড়া। দামোদর নদ ফুলেফেঁপে ওঠায় ব্যারাজে কচুরি পানা জমে প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে হয়েছিল টানা কয়েক দিন। ডুবুরি এনে জল সরবরাহ ফের চালু করতে হয়।
এই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এ বছর যাতে না হয়, তাই স্থায়ী সমাধানের পথেই হাঁটছে পিএইচই। দফতরের এক আধিকারিকের কথায়,“এখনই ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই ব্যারাজ এলাকায় শক্ত তারের জাল বসানোর কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছি।”