দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুখবর নিয়ে আসছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।
এতদিনের প্রতীক্ষা শেষ হতে চলেছে বলেই আশা। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই ব্রিটেনে টিকা দেওয়া শুরু করতে পারে অক্সফোর্ড ও ব্রিটিশ সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটেনের প্রথম সারির ট্যাবলয়েড দ্য সান পত্রিকা জানিয়েছে, ২ নভেম্বর থেকে টিকাকরণ শুরু হতে পারে ব্রিটেনে। সে জন্য লন্ডনের একাধিক হাসপাতালকে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে।
দ্য সান জানিয়েছে, টিকার সংরক্ষণের সব ব্যবস্থা করে রাখতে বলা হয়েছে লন্ডনের হাসপাতালগুলিকে। ২ নভেম্বর থেকেই সাধারণ মানুষকে টিকা দিতে শুরু করবে অক্সফোর্ড। টিকার কী ডোজ দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্বজুড়ে যত রকম কোভিড ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে তার মধ্যে এগিয়েই ছিল অক্সফোর্ড। সেই এপ্রিল মাস থেকে অক্সফোর্ড টিকার প্রতিটি পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্ট আশা জাগিয়েছে। মাঝে অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় এক স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে অক্সফোর্ড জানিয়েছিল, টিকার ডোজে কোনওরকম রোগ দেখা যায়নি। কারণ দাবি ছিল, মহিলা স্বেচ্ছাসেবক যে ধরনের স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত, তা অক্সফোর্ডের তৈরি ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিনের ডোজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হওয়া সম্ভব নয়। কাজেই টিকা যে সুরক্ষিত সেটা প্রমাণ করে অক্সফোর্ড।
সম্প্রতি অক্সফোর্ড টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনে জানিয়েছে, প্রবীণ ও কমবয়সীদের শরীরে টিকার ডোজ অভূতপূর্বভাবে কাজ করেছে। করোনা আক্রান্ত প্রবীণদের টিকার ডোজ দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে অক্সফোর্ডের সারা গিলবার্টের টিম। একইভাবে টিকা কার্যকরী হয়েছে কম বয়সীদের শরীরেও। অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের আশা, কো-মর্বিডিটি থাকলেও টিকার ডোজে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সাহায্যে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) টেকনোলজি ব্যবহার করে ভেক্টর ভ্যাকসিন ChAdOx1 nCoV-19 ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম। ভ্যাকসিন গবেষণায় রয়েছেন অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল। পরে অক্সফোর্ডের সঙ্গে এই ভ্যাকসিন গবেষণায় যুক্ত হয় ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রজেনেকা। অক্সফোর্ড টিকার প্রথম দুই পর্বের ট্রায়াল রিপোর্ট সামনে এনে ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল বলেছিল, ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ভ্যাকসিনের একটা ডোজেই শরীরে টি-কোষ সক্রিয় হয়েছে। ভ্যাকসিন যাদের দেওয়া হয়েছে তাদের ৯০ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। ১০৭৭ জন স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। প্রায় প্রত্যেকের শরীরেই টি-কোষ (T-Cell)সক্রিয় হয়েছে। পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়েছে। প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখে ইতিমধ্যেই দশ কোটি ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।