দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের জেলে নিগৃহীত ভারতের প্রাক্তন নৌসেনা কর্মী কুলভূষণ যাদব। মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি থেকে পিছিয়ে এসেছেন কুলভূষণ, ইসলামাবাদের এই দাবি মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। গোটাটাই নাটক সাজিয়েছে পাকিস্তান। কুলভূষণ প্রসঙ্গে এবার সরাসরি পাকিস্তানকেই বিঁধল ভারত।
২০১৯ সালের জুলাই মাসের পরে ঠিক এক বছরের মাথায় ফের কুলভূষণ ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান প্রবল সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল আহমেদ ইরফান সংবাদমাধ্যমের সামনে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, চরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানের জেলে বন্দি কুলভূষণ নাকি সামরিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন করে আর্জি জানাতে চান না। অ্যাটর্নি জেনারেলের দাবি, গত ১৭ জুন কুলভূষণকে নাকি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি আর্জি জানাতে চান কিনা। কিন্তু তিনি তা করতে রাজি হননি। বরং পাক সরকারের কাছে তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাতে চান।
ইসলামাবাদের এই দাবির পরেই ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, সবটাই পাকিস্তানের নতুন নাটক। বিদেশমন্ত্রকের মুখুপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, কুলভূষণ বরাবরই বলে এসেছেন তিনি নিরপরাধ। চরবৃত্তির অভিযোগে তাঁকে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কোনও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে চান, তাহলে তিনি রিভিউ পিটিশনের আর্জি করবেন। প্রাণভিক্ষার আবেদন করা মানে তো অভিযোগ মেনে নেওয়া। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, পাকিস্তানের সেনা কারাগারে কুলভূষণের উপর চাপ দেওয়া হয়েছে। তিনি নিগ্রহের শিকার। আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অমান্য করার জন্য চাপ দিয়ে কুলভূষণকে মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে পাকিস্তানের জেলে বন্দি আছেন ভারতের নৌবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার ৪৯ বছরের কুলভূষণ যাদব। ২০১৬-র মার্চে তাঁকে গ্রেফতার করে পাক নিরাপত্তাবাহিনী। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের সেনা আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ভারতের বক্তব্য, কুলভূষণ ব্যবসার কাজে ইরানে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের গুপ্তচররা সেখান থেকে তাঁকে অপহরণ করে। পাকিস্তানের অভিযোগ, কুলভূষণ গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্য বালুচিস্তানে ঢুকেছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে ভারত আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতের শরণাপন্ন হয়। তাদের অভিযোগ ছিল, ভারতীয় দূতাবাসের কোনও কর্মীর সঙ্গে কুলভূষণকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেনশনে গৃহীত নীতি অমান্য করছে। আন্তর্জাতিক আদালতও ভারতের পক্ষে রায় দেয়। আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, ভারতীয় কনস্যুলেটের কর্মীদের সঙ্গে কুলভূষণকে দেখা করার অনুমতি দিতে হবে। বন্দি হিসাবে তাঁর কী অধিকার আছে, তাও জানাতে হবে। কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করুক পাকিস্তান। যতদিন না ফের বিবেচনা করা হচ্ছে, ততদিন কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড যেন কার্যকর না হয়।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, কুলভূষণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার সব ব্যবস্থাই করা হবে।