দ্য ওয়াল ব্যুরো: উড়ন্ত ট্যাঙ্ক থেকে জল ঢেলে নোতর দাম গির্জার আগুন নেভানো গেলে ভালো হত! কে বলতে পারে এমন কথা? আন্দাজ করুন তো?
কঠিন পরিস্থিতিতে বেফাঁস মন্তব্য। বিতর্কিত টুইট। বারে বারেই মনে করিয়ে দেয় হ্যাঁ, তিনি আর কেউ না, ডোনাল্ড ট্রাম্পই বটে। প্যারিসের নোতর দাম গির্জায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ে এমন টুইট করেছেন তিনিই। রাজনীতি-অর্থনীতি হয় অন্য ব্যাপার, তাই বলে এত বড় দুর্ঘটনা নিয়ে এমন মন্তব্য, নেটিজেনরা বলছেন ট্রাম্পোচিত আচরণই বটে।
আগুনের গ্রাসে ইতিহাস। লেলিহান অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দিয়েছে পৃথিবীর প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যমণ্ডিত এই ক্যাথিড্রালের একাংশ। প্রায় ৮০০ বছরের মধ্যযুগীয় স্থাপত্যের এই নির্মম পরিণতি দেখে হাহাকার শুরু হয়েছে প্যারিসে। চোখের জল ফেলছেন বিশ্ববাসী। এমন উত্তেজক পরিস্থিতিতে নিজের চেনা-পরিচিত ভঙ্গিতে ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব রাজনীতিতে হোক বা সামাজিক-অর্থনৈতিক বিষয়ে, ট্রাম্পের বেঁফাস মন্তব্য আগেও বহুবার ঝড় তুলেছে। তবে এ বারের পরিস্থিতি কিছু আলাদা।
https://twitter.com/realDonaldTrump/status/1117844987293487104
টুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘বিধ্বংসী আগুনের কবলে প্যারিসের নোতর দাম ক্যাথিড্রাল। দাউ দাউ করে জ্বলছে শতাব্দী প্রাচীন গির্জা। এই দৃশ্য দেখা সাঙ্ঘাতিক ব্যাপার। আমার মনে হয় যদি উড়ন্ত ট্যাঙ্ক থেকে জল ঢালা যেত, তাহলে কাজ হত অনেক তাড়াতাড়ি।’’
ট্রাম্পের এই টুইট সামনে আসতেই ছোটোখাটো ঝড় বয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রীতিমতো চোখ রাঙিয়ে নিন্দা করেছেন টুইটারাইটরা। কেউ বলেছেন, এই পুরাকীর্তি প্যারিসের প্রাণ। সেখানকার প্রশাসন বিলক্ষণ জানে কী ভাবে দ্রুত আগুন বশে আনতে হবে। একশোরও বেশি দমকলকর্মীর নিরলস পরিশ্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এমন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর বদলে, বোকা বোকা মন্তব্য করে ট্রাম্প নিজের পরিচয় নিজেই দিয়েছেন।
https://twitter.com/MichBonner/status/1117890595236614144
https://twitter.com/RyanHillMI/status/1117891184641187840
https://twitter.com/GoodhopeNot/status/1117908428674854913
https://twitter.com/josie1964/status/1118127934777126913
বিতর্ক অবশ্য এখানেই থামেনি। তাঁর টুইটের জবাবে ক্ষোভের আঁচ বেড়েছে একটু একটু করে। কখনও ব্যাঙ্গাত্মক টুইট, কখনও অ্যানিমেশনে ট্রোলড হয়েছে ট্রাম্প। কেউ লিখেছেন, ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক, জল..ট্রাম্প কি পাগল হয়ে গেছেন?’ কেউ আবার উড়ন্ত চাকতির বা ইউএফও-র ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এমনটাই কি বলতে চেয়েছেন ট্রাম্প!’ অনেকে আবার কুটিল হেসে অ্যানিমেশনে দেখিয়েছেন, ডানা মেলা রকেট উড়ে চলেছে, তার থেকে জল পড়ছে। আবার কেউ টুইটে ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এমন উড়ন্ত ট্যাঙ্ক সিনেমাতেই দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে হয় ভুলে গেছেন।’
https://twitter.com/JimKilbane/status/1117972634791231488
https://twitter.com/David_vanH/status/1117892835028553730
https://twitter.com/RubanMaitre/status/1118101019555184640
https://twitter.com/ChaelMontgomery/status/1117930082897661953
https://twitter.com/TOXICVENOMZ8/status/1118100638284623872
নোতর দাম নিয়ে মানুষের আবেগ ছিল বাঁধভাঙা। জ্বলন্ত গির্জার সামনে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলতে দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষকে। খ্রিস্টান ধর্মীয় সঙ্গীত গাইছিলেন অনেকেই। গুড ফ্রাই ডে ও ইস্টারের ঠিক আগেই এই ঘটনায় আবেগে ভেঙে পড়েছেন ক্যাথলিকরা। দমকলকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে বেল টাওয়ার ও গির্জার বাইরের অংশটি আগুনের হাত থেকে বাঁচাতে পেরেছেন। গির্জার পুনর্নির্মাণেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ । মধ্যযুগীয় এই স্থাপত্যের পুনর্নির্মাণের জন্য প্রচার চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই টুইট নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে নানা মহলে। অবশ্য ট্রাম্পের তাতে বিশেষ হেলদোল নেই, তিনি পাল্টা আরও একটা টুইট করেছেন। তাতে লিখেছেন, ‘‘ঈশ্বর ফ্রান্সের মানুষজনের মঙ্গল করুন।’’