দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১৫ ডিসেম্বর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। আহত হন কয়েকজন ছাত্র। তাঁদের মধ্যে একজন ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন দিল্লি হাইকোর্টে। সেই সঙ্গে ‘দোষী’ পুলিশদের বিরুদ্ধে এফআইআর করারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি এন পটেল ও বিচারপতি সি হরিশংকরকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই আর্জি নিয়ে নোটিস দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, দিল্লি সরকার ও পুলিশকে। এসম্পর্কে তাদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে আগামী ২০ মে।
যে ছাত্র কোর্টে ওই আবেদন করেছেন, তাঁর নাম মহম্মদ মুস্তাফা। তিনি বলেন, পুলিশের আক্রমণে তিনি দেহে ও মনে আঘাত পেয়েছেন। তাঁর আর্জি, ক্ষতিপূরণ ছাড়াও চিকিৎসা করাতে তাঁর যা খরচ হয়েছে এবং হাসপাতালে যাতায়াতে তাঁর যা গাড়িভাড়া লেগেছে, সেই টাকাও সরকার তাঁকে মিটিয়ে দিক।
জামিয়ার আরও এক ছাত্র গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন। তাঁর নাম সায়ন মুজিব। তিনি বলেন, ১৫ ডিসেম্বর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করছিলেন। পুলিশ সেখানে ঢুকে তাঁদের মারধর করে। এছাড়া মহম্মদ মিনহাজুদ্দিন নামে এক ছাত্র আদালতে অভিযোগ করেন, পুলিশের মার খেয়ে তিনি অন্ধ হয়ে গিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ ডিসেম্বর ঠিক কী ঘটেছিল, তার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে। এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছেন। এমন সময় ঢুকে পড়ল একদল পুলিশ। তাদের শরীরে বর্ম। মুখে রুমাল বাঁধা। লাইব্রেরিতে ঢুকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে তারা। এই দেখে বাঁচার জন্য ছুটোছুটি করত থাকেন ছাত্র-ছাত্রীরা। কিন্তু তারপরেও বাঁচতে পারেননি তাঁরা। নির্বিচারে লাঠি চালায় পুলিশ।
https://twitter.com/Jamia_JCC/status/1228772837583753216
এই ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ভিডিও সামান্য একটা অংশ মাত্র। পুরো ঘটনাটা এর থেকেও অনেক বেশি নৃশংস। এই হামলায় একাধিক পড়ুয়া আহত হন। একজন ছাত্রের চোখ গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ভিডিও সামনে আসতে নেটিজেনরা বলছেন, এবার তো প্রমাণ হয়ে গেল। কী বলবে এবার দিল্লি পুলিশ। এতদিন তো তারা অভিযোগ অস্বীকার করছিল। কিন্তু সবাই দেখতে পেলেন, কী বর্বরতার সঙ্গে হামলা চালিয়েছে পুলিশ।
এই ভিডিও নিয়ে বিজপিকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বে থাকা প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া টুইট করে বলেছেন, “দেখুন কী ভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের মারছে পুলিশ। একজন ছাত্র বই পড়ছে। কিন্তু পুলিশ তাকে ক্রমাগত মারছে। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দিল্লি পুলিশ মিথ্যে কথা বলেছিলেন যে তাঁরা লাইব্রেরিতে ঢোকেননি। এই ভিডিও প্রকাশের পরেও যদি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।”