
শেষ আপডেট: 15 July 2020 18:30
কোভিড সংক্রমণের সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে নিউমোনিয়ার। তবে কোভিড-১৯ যেমন আরএনএ ভাইরাস ঘটিত রোগ, নিউমোনিয়ার কারণ ব্যাকটেরিয়া। তবে ব্যাকটিরিয়া ছাড়াও ছত্রাক ও ভাইরাসঘটিত কারণেও শরীরে দানা বাঁধতে পারে নিউমোনিয়া। এর নানা প্রকারভেদ রয়েছে। নিউমোক্কাল পলিস্যাকারাইড ব্যাকটেরিয়ার স্ট্রেন ব্যবহার করে ভ্যাকসিন বানিয়েছে সেরাম।
করোনার মতোই উপসর্গ দেখা যায় নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রেও। ধুম জ্বর, প্রবল কাশি, বুকে সংক্রমণ এর প্রাথমিক উপসর্গ। সংক্রমণ গভীরে ছড়ালে তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। মূলত ক্রনিক ঠান্ডা লাগা, বুকে শ্লেষ্মা জমে থাকার কারণেই এই অসুখ ছড়াতে শুরু করে। শীতের সময় শুষ্ক আবহাওয়ায় নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সামান্য ঠান্ডা লাগা থেকেও কেউ কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, মূলত, বয়স্ক ও শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই দেখা যাচ্ছে, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ হলে খুব সহজেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। বুকে ব্যথা, শ্বাসের সমস্যা শুরু হচ্ছে। তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হচ্ছে ফুসফুসে। অনেকের ক্ষেত্রে আবার ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধতেও দেখা যাচ্ছে।
আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, কাশি, থুতু থেকে নিউমোনিয়ার জীবাণু ছড়াতে পারে। করোনার মতো একেও ড্রপলেট ইনফেকশন’ বলা হয়। সেরাম জানিয়েছে, এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে। নিউমোনিয়া শুধু নয় যে কোনও সংক্রমণের মোকাবিলায় শরীরে শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেম তৈরি হবে। গাম্বিয়াতেও এই ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল করেছিল সেরাম।
অক্সফোর্ডের সারা গিলবার্টের টিমের নেতৃত্বে ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন তৈরির কাজও জোরকদমে চলছে সেরামে। অক্সফোর্ডের ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন তথা ChAdOx1 nCoV-19 ভ্যাকসিন গবেষণার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে অ্যাস্ট্রজেনেকাও। অক্সফোর্ড ও অক্সফোর্ডের অধীনস্থ জেন্নার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের ডিজাইন করা ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে ব্রিটেনে। ডিএনএ ভ্যাকসিনের প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হয়েছিল এপ্রিলে। প্রথম দু’জনের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়েছিল ভ্যাকসিন। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা বিজ্ঞানী। নাম এলিসা গ্রানাটো। আরও ৮০০ জনকে দুটি দলে ভাগ করে ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছিল। এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিলেন, ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট, অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড, টেরেসা লাম্বে, ডক্টর স্যান্ডি ডগলাস ও অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল এবং জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। ভারতের সেরাম দাবি করেছে, অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিকাল রিপোর্টে সুফল দেখা গেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালও ভালর দিকেই। সব ঠিক থাকলে জুলাই মাসের শেষ থেকে অগস্টেই ভ্যাকসিন চলে আসতে পারে বাজারে। ২০ থেকে ৩০ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সেরাম ইনস্টিটিউটের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুরেশ যাদব।