দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার চিকিৎসায় আর্থ্রাইটিসের ওষুধ টোসিলিজুমাবের ট্রায়ালে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধনের অনুমোদন সাপেক্ষেই টোসিলিজুমাবের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হচ্ছে দেশের একাধিক মেডিক্যাল সেন্টারে। দেশজুড়ে টোসিলিজুমাবের ট্রায়ালের দায়িত্বে রয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত ডাক্তার অরভিন্দর সিং সয়েন।
গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালের লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন ও রিজেনারেটিভ মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ডাক্তার অরভিন্দর অয়না ডারমাটোলজি ক্লিনিকেরও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর। তিনি বলেছেন, ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট ড্রাগ টোসিলিজুমাব কোভিড সংক্রমণ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে পারে। ভাইরাসের সংক্রমণ হলে শরীরে যে অধিক প্রদাগজনিত রোগ তৈরি হচ্ছে তাকে থামিয়ে দিতে পারবে এই ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট। ডাক্তারের দাবি, নির্দিষ্ট সময়ের ডোজে টোসিলিজুমাব থেরাপি প্রয়োগ করলে কোভিড রোগীর ফুসফুসের সংক্রমণ কমানো যাবে, ফলে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়ার দরকার পড়বে না।
https://twitter.com/ArvinderSoin/status/1259710026622492674
ডাক্তার অরভিন্দর বলেছেন দেশজুড়ে টোসিলিজুমাবের প্রয়োগ ও রোগীদের উপর তার প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য মেডিক্যাল টিম তৈরি হয়েছে। দেশের ৬টি রাজ্যের ১০টি শহরের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্রিটিকাল কেয়ার এক্সপার্টদের নিয়ে এই টিম কাজ করবে বিভিন্ন মেডিক্যাল সেন্টারে। এই দলের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবে তিনি নিজে এবং মেদান্ত ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাক্তার নরেশ ট্রেহান।
করোনার সংক্রমণ কমাতে কীভাবে কাজ করতে পারে টোসিলিজুমাব?
টোসিলিজুমাব ড্রাগকে বলা হয়
‘ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট’ ( immunosuppressant)৷ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় এই ওষুধ৷ এটি মূলত একপ্রকার মোনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি যা সিস্টেমিক জুভেনাইল ইডিয়োপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস (এসজেআইএ) অর্থাৎ শিশুদের যে ধরনের আর্থ্রাইটিস দেখা যায় তার চিকিৎসায় কাজে লাগে। পলিআর্টিকুলার জুভেনাইল ইডিয়োপ্যাথিক আর্থ্রাইটিসের (পিজেআইএ) চিকিৎসাতেও কাজে লাগে এই ওষুধ।

সার্স-কভ-ভাইরাসের সংক্রমণে শরীরে যে অধিক প্রদাহ তৈরি হয় তার কারণ হল সাইটোকাইন নামক প্রোটিনের অধিক ক্ষরণ। এই প্রোটিনের কাজ হল বাইরে থেকে কোনও সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যাথোজেন ঢুকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কোষে সেই বিপদ সঙ্কেত পৌঁছে দেওয়া। অজানা সংক্রামক প্রোটিন দেখলেই ঝড়ের গতিতে কোষে কোষে বিপদবার্তা পৌঁছে দেয় এই সাইটোকাইন প্রোটিন। এই প্রোটিন ক্ষরণেরও একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। যদি দেখা যায় সাইটোকাইন ক্ষরণ বেশি হচ্ছে বা কম হচ্ছে তাহলে ভারসাম্য বিগড়ে যায়। ডাক্তার অরভিন্দর বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ হলে এই সাইটোকাইনের ক্ষরণ প্রয়োজনের থেকে বেশি হচ্ছে। এত বেশি প্রোটিন নিঃসৃত হচ্ছে যে বিপদবার্তা পৌঁছে দেওয়ার বদলে সে নিজেই কোষের ক্ষতি করে ফেলছে। এই ঘটনাকে বলা হচ্ছে সাইটোকাইন ঝড় (Cytokine Storm)। যার কারণে অ্যাকিউট রেসপিরেটারি ডিস্ট্রেস সিন্ড্রোম (ARDS)দেখা দিচ্ছে রোগীর শরীরে। তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে, রোগীকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখার দরকার পড়ছে।
ডাক্তার অরভিন্দরের কথায়, এই টোসিলিজুমাব থেরাপি সাইটোকাইনের অধিক ক্ষরণ বন্ধ করবে, পাশাপাশি, আইএল-৬ (IL-6) নামক প্রোটিন যা রোগীর শরীরে বেশি উত্তেজনা বা প্রদাহ তৈরি করছে তাকে আটকে দিতে পারবে।
ইনদওরের শ্রী অরবিন্দ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (SAIMS)-এর ডাক্তাররা দাবি করেছিলেন আর্থ্রাইটিসের ওষুধ টোসিলিজুমাব ভাল কাজ করছে করোনা রোগীদের শরীরে। ইনদওরের এই হাসপাতালে পাঁচজন সঙ্কটাপন্ন রোগীকে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল৷ দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে দু’জন রোগীর শরীরে এই ওষুধের প্রভাব দারুণভাবে কার্যকরী৷ তাঁদের সংক্রমণও অনেকটাই কমের দিকে৷ আমেরিকা, চিন ও ইতালিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় টোসিলিজুমাব থেরাপির প্রয়োগ করা হচ্ছে।