দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড লড়াইয়ে তিনিও সামনের সারিতেই। স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রোগীদের দেখাশোনা করছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির পিএইচডি স্কলার তনুশ জগদীশ। দামি এন৯৫ মাস্ক ও অন্যান্য ফেস-মাস্ক, পিপিই জীবাণুমুক্ত করে বারবার ব্যবহার করা যাবে কীভাবে, তার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি দেখিয়েছেন তনুশ। তাঁর দেখানো পদ্ধতি ইতিমধ্যেই কাজে লাগানো শুরু করেছেন ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রোগ্রাম ফর সিস্টেমস, সিন্থেটিক অ্যান্ড কোয়ান্টিটেটিভ বায়োলজি বিভাগে গবেষণা করছেন তনুশ। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি বিভাগেও গবেষণারত তিনি। ওই হাসপাতাল তো বটেই, ম্যাসাচুসেটসের আরও কয়েকটি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় অগ্রনী ভূমিকা নিয়েছেন এই ভারতীয় ছাত্র।
https://twitter.com/TanushJagdish/status/1254529106701680642
তনুশ জানিয়েছেন, সংক্রামিত রোগীর থুতু, লালার কণায় অর্থাৎ রেসপিরেটারি ড্রপলেটের মাধ্যমে সার্স-কভ-২ ছড়িয়ে পড়ছে। এই রেসপিরেটারি ড্রপলেট আটকাতে পারে এন৯৫ মাস্ক। কাপড়ের তৈরি ক্লথ ফেস-মাস্কেও ভাইরাস কিছুটা আটকানো যায়। কিন্তু রেসপিরেটারি ড্রপলেটে থাকা ভাইরাস যে কোনও বস্তুর উপরেই দীর্ঘসময় বেঁচে থাকতে পারে। বিশেষত মসৃণ পদার্থ হলে সাতদিন অবধি তার ইনকিউবেশন পিরিয়ড চলে। ফেস-মাস্কেও তাই। ভাইরাল স্ট্রেন লেগে থাকা মাস্ক মুখে পড়লে সুস্থ মানুষেরও সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাছাড়া পিপিই বা অন্যান্য সুরক্ষার সরঞ্জামও এই একই কারণে বারে বারে বদলাতে হয়। অতিমহামারীর এই সময় ফেস-মাস্কের ঘাটতি রয়েছে, এত রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে প্রতিবার পিপিই বদলানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই এই সব জিনিসই জীবাণুমুক্ত করে ফের ব্যবহার করার উপায় খোঁজা হচ্ছে হার্ভার্ডের সিন্থেটিক অ্যান্ড কোয়ান্টিটেটিভ বায়োলজি বিভাগে। সেখানেই এই নতুন ও সহজসাধ্য পদ্ধতি তিনি বার করেছেন।
https://twitter.com/PabloFuente/status/1254707002045071361
কীভাবে জীবাণুমুক্ত করা যাবে মাস্ককে? তনুশ বলেছেন, মাইক্রোওয়েভে অধিক তাপমাত্রায় তিন-চার মিনিট রাখলেই যে কোনও মাস্ক জীবাণুমুক্ত হবে। এন৯৫ মাস্কের ক্ষেত্রে নেটের পর্দা সরিয়ে জল ভর্তি কন্টেনারের উপরে মাস্ক রাখলে তিন মিনিটের মধ্যে জীবাণুমুক্ত করা যাবে। ভাইরাল স্ট্রেন যদি থেকেও যায়, সেটা মাইক্রোওয়েভের ভেতর তাপমাত্রাতেই মরে যাবে।
এই পরীক্ষার জন্য এমএস২ (MS2) ভাইরাল স্ট্রেন ব্যবহার করেছিলেন তিনি। সার্স-কভ-২ ভাইরাসের জিনোমের সঙ্গে এই এমএস২ ভাইরাসের মিল আছে। তবে এরা অতটা সংক্রামক নয়, ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করাও নিরাপদ। দুই ভাইরাসই সিঙ্গল স্ট্র্যান্ডেড আরএনএ ভাইরাস। এই এমএস২ ভাইরাসের মধ্যে এমন প্রোটিন আছে যাকে ভাঙা সার্স-কভ-২ এর লিপিড পর্দার থেকেও শক্ত। তাই এই ভাইরাস দিয়ে পরীক্ষাই সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন তনুশ।
মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যানিমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) তাঁর এই পদ্ধতিতে সম্মতি দিয়েছে। তনুশ বলেছেন, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল প্রিভেনশনের গাইডলাইনে মাস্ক, পিপিই জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতির তালিকায় তাঁর এই মাইক্রোওয়েভ-হিটিং পদ্ধতিও আছে। তাছাড়া সিডিসি-র অনুমোদনেই আরও একটি জীবাণুমুক্ত করার বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। সেটা হল ভেপোরাইজড হাইড্রজেন পারক্সাইড (VHP) পদ্ধতিতে। যে কোনও হাসপাতাল, নার্সিংহোমে যেখানে অনেক মাস্ক, পিপিই বা চিকিৎসার সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে হবে সেখানে এই পদ্ধতির প্রয়োগ হবে। ভিএইচপি চেম্বারে ঢুকিয়ে ভাইরাল স্ট্রেন নষ্ট করা যাবে। এই পদ্ধতি নিয়ে হার্ভার্ডের বায়োলজি ল্যাবে গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছেন তনুশ জগদীশ।