
শেষ আপডেট: 13 July 2020 18:30
রুদ্র কপ্টারের দুটি ভ্যারিয়ান্ট আছে। মার্ক-৩ ও মার্ক-৪। মার্ক-৩ ভার্সনে সেন্সর, টার্গেটিং সিস্টেম আছে কিন্তু মিসাইলের প্রযুক্তি নেই। মার্ক-৪ ভ্যারিয়ান্টে ২০ এমএম টারেট গান, বেলজিয়ান ৭০ এমএম রকেট, এমবিডিএ এয়ার-টু-এয়ার এবং এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল সিস্টেম রয়েছে। তাছাড়া রুদ্র কপ্টারের মার্ক-৪ ভ্যারিয়ান্ট থেকে ছোড়া যায় হেলিনা মিসাইল।
হ্যালের বানানো রুদ্র অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টারের এই মার্ক-৪ ভ্যারিয়ান্টই ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে। সূত্রের খবর, লাদাখ এয়ারবেসে হ্যাল-রুদ্র মার্ক-৪ মোতায়েন করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের তৈরি হারবিন জেড-১৯ কপ্টারের থেকেও বেশি শক্তিশালী স্বদেশী রুদ্র কপ্টার। জেড-১৯ লাইট অ্যাটাক হেলিকপ্টার যা চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির জন্য তৈরি করেছে হারবিন এয়ারক্রাফ্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কর্পোরেশন (এইচএএমসি)।
রুদ্র কপ্টারের প্রোটোটাইপ তৈরি হয় ২০০৭ সালে। অস্ত্র নিক্ষেপের প্রযুক্তি যোগ করে ফায়ারিং ট্রায়াল হয় ২০১১ সালে। ওই বছরেই কপ্টার থেকে ২০ এমএম টারেট গানের ফায়ারিং ট্রায়ালও করে ভারতীয় বায়ুসেনা। রুদ্র কপ্টারে মিস্ট্রাল এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল যোগ করা হয় ২০১১ সালের নভেম্বরে। ওই সময়েই ৭০ এমএম রকেট সিস্টেমের প্রযুক্তিও যোগ করে হ্যাল। ধাপে ধাপে অস্ত্রসাজে সাজিয়ে তোলা হয় রুদ্র কপ্টারকে। মিস্ট্রাল হল ইনফ্রারেড হোমিং মিসাইল। ৬.৫ কিলোমিটার রেঞ্জ অবধি লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করতে পারে। ১৫.৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪.৯ মিটার উচ্চতার রুদ্র কপ্টারের ওজন সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোগ্রাম। ২৬০০ কিলোগ্রাম ওজন বইতে পারে এই কপ্টার।
রুদ্র মার্ক-৪ ভ্যারিয়ান্ট ডবল ইঞ্জিন অ্যাটাক কপ্টার। সিয়াচেনের মতো দুর্গ পাহাড়ি এলাকা থেকেও উড়তে ও অবতরণ করতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম, পাহাড়ি এলাকায় অধিক উচ্চতায় যুদ্ধ করার মতো প্রযুক্তি রয়েছে রুদ্র কপ্টারের।
নাইট ভিশন গুগল (NVG) ককপিটে রাতের আঁধারেও টার্গেট ঠিক করতে পারবেন পাইলট। এতে রয়েছে ডপলার নেভিগেশন, রেডিও অল্টিমিটার, ইলেকট্রো অপটিক পড, হেলমেট-মাউন্টিং সাইট ও হেলমেট-পয়েন্টিং সিস্টেম। এই কপ্টারের নেক্সটার টিএইচএল-২০ মাউন্টেট গান থেকে প্রতি মিনিটে ৭৫০ রাউন্ড ফায়ার করা সম্ভব। যার পাল্লা প্রায় ২০০০ মিটার।