দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার সন্ধ্যায় জেএনইউয়ের সবরমতী হস্টেলে হানা দেয় মুখোশধারী দুষ্কৃতীরা। বামপন্থী নেত্রী ঐশী ঘোষ সহ অনেকে আহত হন। তখন হস্টেলে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ছাত্র রাজেশ কুমার আর্য। তিনি এক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের কাছে জানিয়েছেন, কীভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন মুখোশধারী গুন্ডাদের হাত থেকে।
তাঁর কথায়, সেদিন সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ মুখোশধারী ২০ জন হস্টেলে ঢুকল। তাদের হাতে ছিল লাঠি, লোহার রড ও হাতুড়ি। আমার ঘর হস্টেলের তিন তলায়। আমি ওপর থেকে দেখছিলাম, মুখোশধারীরা এক একটা ঘরে ঢুকছে আর আবাসিকদের মারধর করছে। আমি যখন বারান্দা থেকে দেখছি, গুন্ডাদের একজনের চোখে পড়ে গেলাম। সে চেঁচিয়ে অন্যদের বলল, ওই দ্যাখ, ওপরে একজন আছে। তারপর তারা উঠে এল তিনতলায়।
গুন্ডাদের ভয়ে রাজেশ ঘরের দরজা বন্ধ করে বসেছিলেন। তাতেও রেহাই পাননি। তাঁর কথায়, “তারা দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল। তারপর ভেন্টিলেটরের কাচ ভেঙে ঢুকল ঘরে।” ঘরে মুখোশধারীরা ঢুকে পড়ায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তারা রাজেশকে ঘিরে ধরে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যায় ঘরের এক কোণে। অনেকে তাঁর খাটের ওপরে দাঁড়ায়। তারা রাজেশকে জিজ্ঞাসা করে, তোর নাম কী? কোন সংগঠন করিস?
রাজেশের কথায়, “কয়েকজন বলছিল, ওকে মাটিতে ফেলে মার। তাদের বললাম, আমিও এবিভিপি করি। তারা জিজ্ঞাসা করল, এবিভিপি-র কাকে চিনিস বল। আমি কয়েকজনের নাম বললাম। তারা আমার কথায় বিশ্বাস করেনি।”
ভাগ্যক্রমে রাজেশের ঘরে একটি বই ছিল। তার নাম ‘হিন্দু ন্যাশনালিজম : এ রিডার’। তিনি বইটি গুন্ডাদের দেখিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করেন, তিনিও হিন্দুত্ববাদে বিশ্বাসী। তারা বইয়ের নামটি পড়ে। বইটি খানিকক্ষণ নেড়েচেড়ে দেখে। তারপর চলে যায়।
জেএনইউতে হামলা নিয়ে যে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তদন্তে গিয়েছিল, তাতে ছিলেন কংগ্রেসের মুখপাত্র সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, রবিবারের ঘটনা নিয়ে অনেকে অনেক রকম কথা বলেছেন। তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্তে আসা ঠিক হবে না।