
শেষ আপডেট: 2 April 2025 20:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার মনে করেন দলের কর্মীরা কাজ করছে না। ভোটের সময় বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে সাবোটাজ করতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁর। দলের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বললেন, "দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভালো।" বিজেপি নেতৃত্বের কথায়, "বিধায়ক ঠিকই বলেছেন। তৃণমূল টাকা ছাড়া কিছু বোঝে না।"
মঙ্গলবার দেবানন্দপুর পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধান ও দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। মূলত বুথ ভিত্তিক জনসংযোগ ও ভোটার লিস্ট সংক্রান্ত সচেতনতা প্রচারের জন্য বৈঠক করেন। সেখানেই বিধায়ক কর্মীদের নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি আশঙ্কা করেন, ভোটের সময় বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে কর্মীরা সাবোটাজ করতে পারে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
ভাইরাল ভিডিওতে বিধায়ককে কর্মীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, "কেউ নেমন্তন্ন করলে, শ্রাদ্ধবাড়ি যাই, জন্মদিন বাড়ি যাই, পুজো বাড়ি যাই। ড্রেন ওপেন করলে যাই, লাইট ওপেন করলেও যাই। যা বলেন যাই। বিয়ে হলে তো যাই। আমি দেড় মাস ধরে বলছি। বাড়ি বাড়ি স্ক্রুটিনিটা কমপ্লিট করুন। সব কলা দেখাচ্ছে। আমি আজকে একদম ডিটারমাইন্ড রুমা কে বলেছি। রুমা না, অনেকেই ছিল আমার ঘরে। আপনারা ভোটের সময় স্ক্রুটিনি করেন না করেন না করেন না। আপনারা দুঃখ পেলে আমার বয়ে গেছে। যেটা বাস্তব আমি বলছি। যারা একমাসের স্ক্রুটিনি করতে পারছেন না তারা ১০ দিনে স্ক্রুটিনি করেন আমাকে বিশ্বাস করতে হবে। আমি প্রার্থী হওয়ার পর থেকে আপনাদের একটাও ভোটার স্লিপ লিখতে হয় না। ২০১১ থেকে আমি ছাপানো ভোটার স্লিপ দিয়ে আসছি। আপনারা ছাপানো ভোটার স্লিপ সাজাতেও পারেন না। কারণ স্ক্রুটিনি না করলে সাজাবেন কীভাবে। দেখুন দলকে যেহেতু ভালোবাসেন আমরা তো পয়সা দিই না। আপনারা ভালোবেসে করেন। সেই ভালবেসে যারা করে তারা ফাঁকি দেবেন কেন বলুন। যুদ্ধের সময় তৃণমূলের সোলজারদের এককাট্টা হতে হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ লাগল, আমার ছেলেরা অর্ধেক যদি ডুবলিসিটি করে, ইন্ডিয়া জিতবে? যারা আমার বুথের সোলজার তৃণমূলের কর্মী তারা যদি বিজেপির থেকে টাকা নিয়ে আসে তাদের তৃণমূল করার দরকার কী আছে। আইডেন্টিফাই করুন তাদের সঙ্গে বসুন তাদের বোঝান ভাই এটা করোনা তৃণমূল করলে তৃণমূল টাই করো আর ভালো না লাগলে বেরিয়ে যাও। দুষ্ট গরুর চাইতে শূন্য গোয়াল ভালো। আমার পাঁচজন থাকবে আমি জানব আমার পাঁচজন, দশজনের দরকার নেই। পাঁচজন তো বেইমানি করবে না, যারা বেইমানি করবে না তাদের নিয়ে থাকুন। তাদের সুযোগ দিন।"
বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, "তৃণমূল দলটাই টাকার উপরে চলে। তৃণমূল টাকা ছাড়া কিছু বোঝে না। বিধায়কও সেটাই স্মরণ করিয়ে দিলেন।"