
বালিগোড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীনবন্ধু মাটি
শেষ আপডেট: 24 August 2024 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: দলের নেতাদের বৈভব ত্যাগ করে মানবিক হতে বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তারকেশ্বরের তৃণমূল নেতা, বালিগোড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীনবন্ধু মাটি কিন্তু প্রথম থেকেই মাটির মানুষ। দামি গাড়ি, স্মার্ট ফোন কিছুই নেই তাঁর। চাষের কাজ সামলে পঞ্চায়েতের কাজ করেন তৃণমূল প্রধান। সাইকেল চালিয়েই রোজ যান পঞ্চায়েত অফিসে।
সকাল হলেই কোদাল হাতে নেমে পড়েন চাষের জমিতে। বেলা দশটা বাজলেই সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন দীনবন্ধুবাবু। প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে পৌঁছন পঞ্চায়েত অফিসে। পঞ্চায়েত প্রধান হলেও তারকেশ্বরের জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা দীনবন্ধুবাবুকে মাস্টারমশাই নামেই চেনেন। তবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে আর গৃহ শিক্ষকতা করেন না তিনি।
প্রয়াত কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক বলাইলাল শেঠের হাত ধরে তার রাজনীতিতে আসা। পরবর্তীতে কংগ্রেসের সেবা দলের তারকেশ্বর ব্লক সদস্য হন। রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর আন্দোলন করতে গিয়ে দশদিন জেল খাটতে হয়েছিল তাঁকে। পুলিশের খাতায় নাম ওঠায় আর সরকারি চাকরির সুযোগ হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন একনিষ্ঠ তৃণমূল কর্মী। বুথ সভাপতি থেকে অঞ্চল কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। কিষাণ ক্ষেতমজুরের ব্লক কমিটির সদস্য হন তিনি। ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়লাভ করার পর বর্তমানে বালিগড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্ব নেন।
পঞ্চায়েতের কাজ সামলে বাড়ি ফেরার পথে জনসংযোগ করা তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। দীনবন্ধু বাবুর বাবা মধুসূদনবাবু ছিলেন প্রান্তিক চাষি। চাষের জমি থেকে যা উপার্জন হতো তাই দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন। মাধ্যমিক পাশ করার পর নিজের পড়াশোনা চালাতে ছাত্র পড়ানো শুরু করেছিলেন দীনবন্ধুবাবু। অ্যাকাউন্টেন্সি অনার্স নিয়ে বি কম পাশ করার পর পড়াশোনায় ইতি টানতে হয়েছিল।
দীনবন্ধু জানান, কোনওদিনই পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। বাবা চাষবাস করতেন, বর্তমানে তিনিও চাষ করেন। বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের প্রতিদিনের ভাতের জোগাড়টুকু করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর একমাত্র নেশা। তিনি বলেন, "যখন নেত্রীর মাথায় চোট লেগেছিল তখন ফুল নিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম তাঁর বাড়িতে। দিদি জিজ্ঞেস করেছিলেন ট্রেনের টিকিট কেটে এসেছিস ? বলেছিলাম না! সেই কথা শুনে ১৭০ টাকা আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন।"
দীনবন্ধুবাবু তখনই মনে মনে ঠিক করেছিলাম মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় যদি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন তিনি কেন পারবেন না। বললেন, "নেত্রীকে দেখেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা জাগে আমার। তাই যতটুকু পারি মানুষের সেবা করি।" নিজের গ্রামে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী যাঁরা, তাঁরাও সবাই তাঁকে পছন্দ করেন। তাঁরাই বলছেন, দীনবন্ধু তাঁর জীবনযাপন দিয়ে বুঝিয়ে চলেছেন তিনি মাটির মানুষ।