
শেষ আপডেট: 8 April 2025 17:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও চারজন নিয়মিত স্কুলে আসছিলেন ছাত্রদের কথা ভেবে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধের পরে মঙ্গলবার স্কুলে ফিরলেন বাকি আটজন চাকরিহারাও।
রিষড়া বিদ্যাপীঠ ইউনিট টু হিন্দি মাধ্যম স্কুলের ১৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২ জন চাকরি হারিয়েছেন। এই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোশনকুমার মাল। পড়ুয়াদের কথা ভেবে চাকরি যাওয়ার পরেও স্কুলে আসছিলেন কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকা। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর এদিন চাকরিহারা বাকি শিক্ষক শিক্ষিকারাও স্কুলে আসেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
তবে কাজে যোগ দিলেও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। সৌরভ কুমার নামে এক চাকরিহারা শিক্ষক বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশের আগে থেকেই আমরা স্কুলে আসছিলাম। আমাদের আবেদন আমাদের মাইনে যেন বন্ধ না হয়। মাইনে বন্ধ হলে আমরা কীভাবে সংসার চালাবো। আমরা যে সম্মানের চাকরি করতাম সেই সম্মানে আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যে দোষ করেছে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। যারা নির্দোষ তারা পরীক্ষা দিয়ে সঠিকভাবে পড়াশোনা করে ছ বছর ধরে চাকরি করছে, তাদেরকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া এটা সত্যি আমরা মেনে নিতে পারছি না । তাই মুখ্যমন্ত্রী যে ভলান্টারি সার্ভিসের কথা বলেছেন যেটাকে আমরা গ্রহণ করতে পারছি না।"
আরেক চাকরিহারা শিক্ষক দেবদত্তা বৈদ্য বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন সেটা আমাদের কাছে একটা পজেটিভ নিউজ। উনি আমাদের পাশে আছেন শুনে ভালো লেগেছে। আমি ছাত্রদের ভালোবেসে পড়াতে আসছি।"
স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোশনকুমার মাল বলেন, "গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে আমার স্কুলের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। আজ ৮ জন এসেছেন স্কুলে। বাকি চারজন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের খাতা জমা দিতে গেছেন। যদিও বোর্ডের তরফ থেকে এখনও কোনও লিখিত নির্দেশ আসেনি, শুধুমাত্র ছাত্রদের ভালোবেসেই শিক্ষক শিক্ষিকারা আসছেন। দল মত নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে এবং শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের কাছে আমার একটাই অনুরোধ স্কুলগুলিকে বাঁচান।"
গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল বাতিল হয়ে যায়। চাকরি হারান প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। এর জেরে অনেক স্কুলেই শিক্ষকের সমস্যা প্রকট হয়। সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারা শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি চাকরি হারা শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, যোগ্য শিক্ষকদের চাকরি যাবে না। আইন মেনেই তিনি দু মাসের মধ্যে ব্যবস্থা করবেন। ততদিন চাকরিহারা শিক্ষকদের ভলান্টারি সার্ভিস দিতে অনুরোধ করেন।