
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 23 July 2024 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: 'অতিথি' গল্পে তারাপদর চরিত্র আঁকতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, 'তারাপদ হরিণশিশুর মতো বন্ধনভীরু, আবার হরিণেরই মতো সংগীতমুগ্ধ।' যাত্রার গান বিবাগী করত তারাপদকে। ঝাড়গ্রামের ক্লাস -টুয়ের পড়ুয়ার সংগীতে আসক্তি নেই। তবুও ঘরে মন টেকে না তার। কেউ মারে না, কেউ বকে না। তবু ঘুরে ঘুরেই ঘর ছাড়ে সে। শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা করে ফেলেছিল। এবার আবার সঙ্গে নিয়েছিল দুই বন্ধুকেও। তবে শেষরক্ষা হল না।
সোমবার ঝাড়গ্রাম স্টেশনে এই তিন বন্ধুকে ঘুরে বেড়াতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। জিআরপি থানায় নিয়ে আসা হয় তাঁদের। অফিসাররা টানা তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে জানতে পারে এই তিন বন্ধুর ঘর ছেড়ে আসার গল্প। পুলিশ অফিসাররা জানান, কখনও ছেলেধরার কথা বলে, কখনও রাস্তা হারিয়ে ফেলার কথা বলে বিভ্রান্ত করছিল তারা। অবশেষে পুলিশ জানতে পারে এদের মধ্যে ক্লাস-টুয়ের পড়ুয়াই দলের পাণ্ডা। আগেও বহুবার সে পালিয়েছে বাড়ি থেকে। হরিদ্বার যাওয়ার পথে একবার চান্ডিল থেকে ধরা পড়ে। একবার গিধনি থেকে ধরা পড়ে। আরেকবার কেদার পর্যন্ত চলেও গিয়েছিল। পরে ফিরে আসে। এবার সেই ক্লাস থ্রি ও ফোরের পড়ুয়া আরও দুজনকে নিয়ে পালিয়েছিল ঘর ছেড়ে।
তিন খুদেরই বক্তব্য, বাড়িতে তাদের মন টেকে না। তাই ঘুরতে বেড়িয়েছিল। এর মধ্যে ক্লাস টুয়ের ছাত্রটি বলে,"বাড়িতে আমাকে কেউ মারে না। ভালবাসে সবাই। কিন্তু বাড়িতে থাকতে আমার ভাল লাগে না। বোর হয়ে যাই। তাই বারবার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যাই।" এবার আবার সঙ্গে জোগাড় করেছিল দুজনকে। শ্রাবণ মাসে দিল্লি যাওয়ার কথা বলেছিল তাদের। তারপর বেরিয়ে পড়েছিল বাড়ি থেকে। এই স্বীকারোক্তি কিন্তু প্রথমে দেয়নি তারা। পুলিশ অনেকবার জিজ্ঞাসা করার পরে বাড়ি থেকে পালানোর গল্পটা সামনে আসে।
জেরা করে পুলিশ জানতে পারে তিন নাবালকের বাড়িই খড়্গপুরে। তারপরেই ঝাড়গ্রাম রেল পুলিশ খড়গপুর রেল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আজ মঙ্গলবার তাদের চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেয় রেল পুলিশ।