উদয়ন বলেন, "নিশীথের কথার উত্তর দেওয়ার কোনও মানে হয় না। তবু দিতে হল, কারণ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন উনি।"

নিশীথ প্রামাণিক ও উদয়ন গুহ
শেষ আপডেট: 25 October 2025 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক'দিন আগেই এসআইআর (SIR) নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন প্রাক্তন বিজেপি (BJP) সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক (Nishith Pramanik)। দাবি, করেছিলেন ভোটার তালিকার সংশোধন হলেই রাজ্য থেকে বাদ পড়বে দেড় কোটির বেশি ভোটার। শুধু কোচবিহার থেকেই বাদ যাবে তিন লক্ষের বেশি ভোটার। বিজেপি নেতার এহেন মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Guha) বললেন, সত্যিই যদি এই প্রক্রিয়ায় অভারতীয়দের নাম বাদ যায়, তাহলে সবার আগে নিশীথ প্রামাণিকের নাম বাদ যাবে। তাঁর যুক্তি, বিজেপি নেতা নিজেই প্রমাণ কোর্টে পারবেন না যে তিনি ভারতীয়।
ঘটনা হল, শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সুরে সুর মিলিয়ে নিশীথ বলেছিলেন, “সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দেড় কোটির বেশি ভোট আছে। এসআইআর হলে বাদ পড়ার সম্ভাবনা আছে। কোচবিহার জেলার কথাই যদি বলা হয়, তাহলে এখানে ৩ লক্ষ নাম বাদ পড়বে। কারণ, এখানে এমন গ্রাম পঞ্চায়েতগুলোতে যেখানে ২০০২ থেকে ২০২৫ এর মধ্যে ভোটার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এমনও দেখা যাচ্ছে একই বাবার নাম দিয়ে ১৫ জন পরিচয়পত্র বানিয়েছে।"
নিশীথ বলেন, "এমনও দেখা যাচ্ছে তিরিশ জন ভোটার কার্ড বানাচ্ছে। তার মানে এটা ভুয়ো। কোথাও দেখা যাচ্ছে বাবার বয়স ৬৫, ছেলের বয়স ৫৫। এখনও পর্যন্ত ৪০ শতাংশ ম্যাপিং করা যাচ্ছে না। প্রত্যেকটা ভোটার ২০০২ এর পরে নাম উঠেছে তাঁদের অন ক্যামেরা সই করতে হবে। তাঁকে সরেজমিনে থেকে এই সই করতে হবে।”
নিশীথের এই কথা শুনে রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, "উনি মন্ত্রী হলে এখনও বাংলাদেশিরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, বলে যে আমাদের গ্রামের ছেলে ভারতের কেন্দ্রের সক্রকারে মন্ত্রী হয়েছে। কাজেই সবার আগে ওঁর নামটা বাদ দিতে হবে।" উদয়নের প্রশ্ন, যেখানেই মুসলমানদের সংখ্যা বেশি, সেটাই নাকি মিনি পাকিস্তান। এই বক্তব্য আসলে সেই মানুষগুলোকে অসম্মান করা। তাঁরা নিশীথ প্রামাণিকের থেকে কম ভারতীয় হিসেবে নিজেদের মনে করেন না। তাঁরা নিশীথের থেকেও বেশি দেশপ্রেমী।
উদয়ন বলেন, "নিশীথের কথার উত্তর দেওয়ার কোনও মানে হয় না। তবু দিতে হল, কারণ ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছেন উনি।"
বস্তুত, নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার ২০০২ সালের তালিকা এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা গিয়েছে— দু’টির মধ্যে মাত্র ৫২ শতাংশ ভোটারের তথ্য মিলে গেছে। রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা এখন ৭.৬ কোটি, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক ভোটারের তথ্য মিলছে না।
এখনও জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার তালিকা যাচাই বাকি, যা মিলিয়ে আরও প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটার। ফলে, ভোটার যাচাইয়ের মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩.৫ কোটি। কমিশন সূত্রে খবর, বিহারে ২ কোটি ভোটারকে এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করতে হয়েছিল।
বুধবার শুরু হওয়া দু'দিনেরে বৈঠকের পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা সহকর্মীদের বার্তা পাঠিয়েছেন—
“এসআইআর যে কোনও দিন ঘোষণা হতে পারে। সাত দিনের মধ্যে ফর্ম ছাপা ও বিএলও-দের প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে। শুক্রবার থেকেই অনুবাদ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে।” বার্তায় আরও বলা হয়েছে, এসআইআর ঘোষণার পরদিনই রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক হবে। সেদিনের আলোচনার বিষয়বস্তু বাংলায় অনুবাদ করে পাঠাতে হবে।