
শেষ আপডেট: 24 April 2024 20:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সকালে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডির অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সন্দেশখালি। শাহজানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে মারধর খেয়েছেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসাররা। মাথা ফেটে, আহত হয়ে চূড়ান্ত বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। আর এই ঘটনা নিয়ে এজলাসে বসেই কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বলেন, তদন্তকারীদের যেভাবে মারা হয়েছে, তাতে পরিষ্কার যে পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আর এরপরই সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যপাল।
এদিন সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, "রাজ্যপাল কেন ঘোষণা করছেন না যে এ রাজ্যে সাংবিধানিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে?'' বিচারপতির পর্যবেক্ষণের খানিক বাদেই অডিও বার্তায় রাজ্য সরকারকে কড়া বার্তা দেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। সন্দেশখালির ঘটনায় তিনিও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ''বাংলায় অপশাসন চলবে না। সরকারের দায়িত্ব গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বর্বরতা ও নৈরাজ্যেকে কঠোর হাতে দমন করা। সরকার তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সংবিধান নিজের পথে চলবে।''
সাম্প্রতিক কালে বাংলার যে কোনও ঘটনায় সরব হতে দেখা গিয়েছে রাজ্যপালকে। সন্দেশখালির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বোসের কথায়, ''রাজ্যে জঙ্গলরাজ এবং গুন্ডারাজ চলছে। সরকারের সঠিক দায়িত্ব পালন করা উচিত। এটা প্রাক নির্বাচনী হিংসা যা প্রাথমিক ভাবে শুরু করা হল। এই প্রচেষ্টাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হবে। দ্রুত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে হবে।''
বর্তমানে রেশন, শিক্ষক ও পুর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কেন্দ্রের একাধিক এজেন্সি রাজ্যে তদন্ত চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শাসক দলের কয়েকজন নেতা-মন্ত্রী। কিন্তু কোথাও সন্দেশখালির মতো এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে! এক স্থানীয় তৃণমূল নেতার বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাতে গিয়ে যেভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তা নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।