দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা অতিমারীর জেরে বিশ্ব জুড়েই অর্থনীতি টালমাটাল। ব্যতিক্রম নয় ভারত। বুধবার বহুজাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থা গোল্ডম্যান সাচস বলল, তাদের হিসাবমতো চলতি আর্থিক বছরে ভারতের অর্থনীতির বিকাশ কমবে ৪০০ বেসিস পয়েন্ট। তা বিকশিত হবে ১.৬ শতাংশ হারে।
গোল্ডম্যান সাচসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে লকডাউনের ফলে ২৫ শতাংশ আর্থিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
গত ২৪ মার্চ দেশ জুড়ে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙার জন্য ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গোল্ডম্যান সাচসের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিন সপ্তাহের লকডাউনের ফলে বিকাশ কমবে ২২০ বেসিস পয়েন্ট। তাছাড়া আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বিকাশ কমে যাওয়ায় ভারতেও বিকাশ কমবে আরও ১৫০ বেসিস পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ভারতের জিডিপি বিকশিত হবে ১.৬ শতাংশ হারে।
গোল্ডম্যান সাচসের ধারণা, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার আরও ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমাবে। তাএ মতে, “আর্থিক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক, সুচিন্তিত ও সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে ভারতকে।”
বিনিয়োগকারী সংস্থার রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, ভারতের অর্থনীতি নতুন আর্থিক বছরের দু’টি ত্রৈমাসিকে সংকুচিত হবে। ভারতের অর্থনীতি বাজারের চাহিদার ওপরে ৬০ শতাংশ নির্ভরশীল। করোনাভাইরাদের অতিমহামারীর ফলে ভারতের অর্থনীতি আচমকাই থমকে গিয়েছে।
গোল্ডম্যান সাচসের মতে, আর্থিক বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যথেষ্ট শক্তি নিয়েই ঘুরে দাঁড়াবে ভারতের অর্থনীতি। কারণ তার মধ্যে দফায় দফায় লকডাউন তুলে নেওয়া হবে। সরকারও অর্থনীতিকে বাঁচাতে আর্থিক সাহায্য দেবে।
মোদী সরকার এখনও পর্যন্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য যে রিলিফ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা জিডিপি-র ০.৮ শতাংশ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার কমিয়েছে ৭৫ বেসিস পয়েন্ট। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বাজারে যে পরিমাণ টাকা সরবরাহ করেছে, তা জিডিপির ৩.২ শতাংশ।
কয়েক সপ্তাহ আগে আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জিওর্জিয়েভা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, নিশ্চিতভাবেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এই অবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলিকে ব্যাপক সাহায্য করা প্রয়োজন।
অনলাইনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আইএমএফ প্রধান। তিনি বলেন, “এখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, আমরা মন্দার যুগে প্রবেশ করেছি।” ক্রিস্টিনার ধারণা, ২০০৯ সালে বিশ্ব জুড়ে যে মন্দা দেখা দিয়েছিল, এবারের মন্দা তার চেয়েও গভীর।
ক্রিস্টালিনা বলেন, অতিমহামারীর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি ‘আচমকাই স্তব্ধ’ হয়ে গিয়েছে। আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য ২৫০০ কোটি ডলার অর্থাৎ ১৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, খুব কম করেই এই হিসাব করা হয়েছে। বাস্তবে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে মন্দার কবল থেকে উদ্ধার করতে হলে আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।
একটি হিসাব দিয়ে ক্রিস্টালিনা বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে উন্নয়নশীল দেশগুলি থেকে ৮৩০০ কোটি ডলারের পুঁজি বিদায় নিয়েছে। ওই সব দেশের সরকার নিজেরা ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। তারা অনেকে ইতিমধ্যেই বিপুল ঋণের জালে ফেঁসে আছে। ৮০ টি গরিব দেশ ইতিমধ্যে আইএমএফের কাছে আর্জি জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে তাদের ত্রাণ দেওয়া হোক। আমেরিকা সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, করোনাভাইরাস মহামারীর মোকাবিলায় ২২০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। তাদের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান আইএমএফ প্রধান।