
গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন
শেষ আপডেট: 30 December 2024 15:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। নতুন বছরের প্রথম মাসের ১৪ তারিখে হতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা। জানা গেছে, মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ৬ জানুয়ারি গঙ্গাসাগরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগেই সব কাজ শেষ করতে চাইছে প্রশাসন। সোমবার আলিপুর পুলিশ গার্ডে সাংবাদিক সম্মেলন করে মেলার প্রস্তুতির খুঁটিনাটি জানিয়ে দিলেন সুন্দরবনের পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও।
সাগরমেলায় পৌঁছতে পুণ্যার্থীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধায় পড়তে না হয়, সে কারণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবনের পুলিশ সুপার। পাশাপাশি মেলায় জঙ্গিদের দাপাদাপি রুখতে বিশেষ ব্যবস্থার কথা জানালেন তিনি।
এদিন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বাংলায় জঙ্গিদের তাণ্ডব বেড়ে চলেছে। এমন অবস্থায় গঙ্গাসাগর মেলা সুষ্ঠুভাবে করতে পারাটাই রাজ্য পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রশ্নের উত্তরে সুন্দরবনের পুলিশ সুপার পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘এসব নিয়ে ভাবার কোনও কারণ নেই। সমস্ত রকম পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেলার সময় ড্রোন ব্যবহার করে সব দিকে নজর রাখা হবে। এছাড়া বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড, স্নিফার ডগদেরও নিয়ে আসা হচ্ছে। আশা করছি কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে না।’
তিনি আরও ঞ্জানিয়েছেন, ‘কোস্ট গার্ড সব দিকে নজর রাখছে। কোনওরকম বেগতিক পরিস্থিতি দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেলার সময় এনডিআরএফ, কোস্ট গার্ড ও উপকূল বাহিনী কড়া হাতে পরিস্থিতির সামাল দেবে।’
মূলত মেলায় পুণ্যার্থীদের জন্য ঠিক কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, পরিবহণ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ভেসেল পরিষেবা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে আলোচনা হয়। গঙ্গাসাগর মেলাকে ঠিকমতো সম্পন্ন করতে নিরাপত্তাতেই জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
বলা যেতে পারে, গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ লগ্নে। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত তীর্থ যাত্রীদের সমস্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালন করবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর যেতে নির্দিষ্ট ৩৬টি জায়গায় বায়ো টয়লেটের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে পুলিস কন্ট্রোল রুম থেকে নিয়ে পুলিস কিয়স্ক সব কিছুই তৈরি রাখা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে ৮০ লক্ষের বেশি জলের পাউচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪৮ টি ওয়াটার ভেনডিং মেশিন লাগানো হয়েছে। যাতে কোনওরকম জলের সমস্যা না হয়।
এছাড়াও ১৫৪০টি জলের ট্যাংকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ৮১৫০টি টয়লেটের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ৩১ টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মোবাইল ফোন চার্জ দিতে যাতে সমস্যা না হয় সে কারণে ১৫০ টি মোবাইল চার্জিং ইউনিট তৈরি করে ফেলা হয়েছে। অস্থায়ীভাবে তীর্থযাত্রীদের থাকার জন্য হোগলা পাতার ১৫৫৯ টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৮ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে মেলা। ১৪ জানুয়ারি সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে শুরু হবে পুণ্যস্নান, যা পরদিন অর্থাৎ ১৫ তারিখ সকাল ৬টা ৫৮ অবধি চলবে।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি যতই অশান্ত হচ্ছে, মৌলবাদী-কট্টরপন্থীদের দাপট যত বাড়ছে, ততই পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে! বাংলাদেশের জেল থেকে জঙ্গি পালানো, একাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে বাংলাদেশ প্রশাসনের মুক্তি দেওয়া, পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো নথি দিয়ে তৈরি পাসপোর্ট বাংলাদেশিদের হাতে যাওয়া, বাংলাদেশি জঙ্গির ধরা পড়া-সহ একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ-আতঙ্ক চরমে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে চিন্তা কাটছে না প্রশাসনের। তবে সোমবার সুন্দরবনের পুলিশ সুপার জানিয়ে দিলেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই। সুষ্ঠুভাবে মেলা পরিচালনা করতে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া উচিত রাজ্য ও পুলিশ প্রশাসন সবকিছুই করবে।