দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের বিধিনিষেধ সকলের জন্যই সমান। সে দেশি হোক বা বিদেশি, সেটাই স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিলেন পুলিশকর্মীরা। লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কড়া নির্দেশিকা যখন জারি হয়েছে, সেটা পালন করতে হবে দেশের সকলকেই। কোনও ছাড় নেই, বিধি ভাঙলে ক্ষমাও নেই। এই সার কথাটা বেশ ভালভাবেই মালুম পেলেন হৃষিকেশের কয়েকজন বিদেশি পর্যটক।
লকডাউনের গুরুত্ব ভুলে গঙ্গার হাওয়া খেতে বেরিয়েছিলেন ১০ জন বিদেশি পর্যটক। গঙ্গার ধার ধরে দিব্যি হাঁটছিলেনও তাঁরা। ঠিক তখনই লাঠি উঁচিয়ে পথ আগলে দাঁড়ান কয়েকজন পুলিশকর্মী। প্রথমে লকডাউনের কড়াকড়ি বোঝানোর চেষ্টা করা হয় তাঁদের। তারপরই বিধি ভাঙার জন্য সাজা দেন পুলিশকর্মীরা। কী সেই সাজা? না কোনও বকাঝকা বা হুমকির ব্যাপার নেই। গঙ্গার ধারে বসেই কাগজে অন্তত ৫০০ বার তাঁদের লিখতে হয়, “আমরা লকডাউনের নিয়ম মানিনি। সেই জন্য খুবই দুঃখিত।”
তপোবন থানার ইনচার্জ বিনোদ শর্মা বলেছেন, ওই পর্যটকরা কেউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কেউ অস্ট্রেলিয়া আবার কেউ মেক্সিকোর বাসিন্দা। অনেকদিন ধরেই হৃষিকেশে রয়েছেন তাঁরা। সম্ভবত লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ার কারণে দেশে ফিরে যেতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে তাঁদের যত্রতত্র ঘুরে বেড়াবার অনুমতি দেওয়া হবে না। লকডাউনের বিধিনিষেধ স্থানীয়দের জন্য যতটা কড়া, এ দেশে থাকা বিদেশিদের জন্যও ঠিক ততটাই। সেই গুরুত্ব বোঝাতেই তাঁদের ৫০০ বার কাগজে লিখতে বলা হয়।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, উত্তরাখণ্ডে এখনও অবধি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫। মৃত্যুর কোনও খবর নেই। এখানকার লোকজন ভালভাবেই লকডাউনের নিয়ম মেনে চলছেন। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময় লকডাউনের রাশ কিছুটা আলগা। ওই সময়ের মধ্যে বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে তার পরে আর বাড়ির বাইরে পা রাখার অনুমতি নেই। পুলিশ জানিয়েছে, হৃষিকেশ বরাবরই বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের জায়গা। এই সময়েও নানা দেশের অনেক পর্যটকই আছেন এখানে। হৃষিকেশের সব হোটেলগুলিকেই বলে দেওয়া হয়েছে পর্যটকদের লকডাউনের নিয়ম ভাল করে বুঝিয়ে দিতে। এর অন্যথা হলে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।