
ছবি- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 17 January 2025 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা প্রমাণ সাইজের ফুলকপির দাম মাত্র ৩ টাকা! কখনও ৪ টাকা। মেহনতের ফসল এইভাবে জলের দামে বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। এমনই দেখা যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের বড়শুলের একাধিক জায়গায়।
ফলে চরম বিপর্যয়ের মুখে চাষিরা। চাষিদের এমন অবস্থা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই বিপর্যয়ের মূল কারণ। অপরিকল্পিত চাষাবাদ, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।
বড়শুলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দামোদর নদী। এই নদীর পাড় ঘেঁষে বিস্তীর্ণ জমিতে চাষ হয় ফুলকপি, ব্রকোলি। এই শীতে মাঠ ভরে রয়েছে ফসলে। কিন্তু বাজারে তেমন দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। তাঁরা বলছেন, মাত্র একমাস আগেও যে কপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৩ থেকে ৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিরা হতাশ সকলে। তাঁদের দাবি, এতে কম দাম পাওয়ায় পরিবহণ খরচই উঠছে না। তাই মাঠ থেকে জলের দরে নিজেরাই কম দামে ফসল বিক্রি করে দিচ্ছেন।
বর্ধমানের বড়শুলের বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে নানা ধরনের সবজি চাষ হয়। শুধু ফুলকপি নয়, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, টমেটোর ভালো ফলন রয়েছে এখানে। কিন্তু বর্তমানে বাইরে থেকে সবজি আসায় এই অঞ্চলের চাষিরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না। তাইও লাভে মুখ দেখা দূরে থাক, ঋণ মিটিয়ে পুঁজি ফেরত পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
চাষি শেখ মজনুর কথায়, "কখনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় কখনও বা অতি ফলন, যার জেরে বারে বারে ক্ষতির সন্মুখীন হতে হচ্ছে। জানি না, কীভাবে এর থেকে নিস্তার মিলবে।"