দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাধারণত জুলাইয়ের শেষেই আয়কর জমা (Income Tax Return) দিতে হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে গত মে মাসে বাড়ানো হয়েছিল আয়কর জমা দেওয়ার সময়সীমা। তখন ঘোষণা করা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আয়কর জমা দেওয়া যাবে। বৃহস্পতিবার ফের বাড়ানো হল সময়সীমা। এদিন সরকার ঘোষণা করল, আয়কর জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। করোনা অতিমহামারীর জন্যই দু'বার আয়কর জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রক থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, "আয়করদাতাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ডায়রেক্ট ট্যাক্সেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রিটার্ন ফাইল করার সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে।"
বৃহস্পতিবার দেশের অর্থনীতির বিকাশ নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। তিনি বলেন কোভিড অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তাঁর আশা, ২০২১-২২ সালের আর্থিক বছরে মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি) ৯.৫ শতাংশ হারে বিকশিত হবে। দু'টি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর বলেন, অগাস্ট মাস থেকেই অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব কমতে শুরু করে। সেজন্য চলতি আর্থিক বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক থেকেই অর্থনীতির ফের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
শক্তিকান্ত দাস বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন লিকুইডিটি যথেষ্ট বেশি। তার ওপরে ভর করেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের বাজার। পরে তিনি জানান, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নন পারফর্মিং অ্যাসেট এখন মাত্র সাত শতাংশ। এত কম পরিমাণ নন পারফর্মিং অ্যাসেটের জন্য ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্ষতি হবে না।
গত জুলাই মাসে বিশ্ব ব্যাঙ্ক বলে, ২০২১ সালে দেশের অর্থনীতির বিকাশ হবে ৮.৩ শতাংশ হারে। তবে ২০২২ সালে বিকাশের সম্ভাবনা আর একটু কম দেখানো হয়। জুলাইয়ের শেষে বিশ্ব ব্যাঙ্ক গ্লোবাল ইকনমিক প্রসপেক্টস নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, আগামী বছরে ভারতের অর্থনীতি ৭.৫ শতাংশ হারে বিকশিত হতে পারে। ২০২৩ সালে বিকশিত হতে পারে ৬.৫ শতাংশ হারে।
২০১৯ সালে ভারতের অর্থনীতি বিকশিত হয়েছিল চার শতাংশ হারে। ২০২০ সালে আশঙ্কা করা হয়েছিল, কোভিডের ধাক্কায় অর্থনীতির সংকোচন হবে ৭.৩ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে ২০২১ সালে বিশ্ব অর্থনীতি বিকশিত হবে ৫.৬ শতাংশ হারে। গত ৮০ বছরে আর কখনও মন্দার পরে অর্থনীতি এত বেশি হারে বিকশিত হয়নি।
এরপরে বলা হয়েছে, ভারত সরকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিকাঠামো, গ্রামোন্নয়ন ও স্বাস্থ্যে এখন অনেক বেশি ব্যয় করছে সরকার। তার ওপরে ম্যানুফ্যাকচারিং ও পরিষেবা ক্ষেত্রও ঘুরে দাঁড়িয়েছে দ্রুত।
মে মাসের শেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানায়, কোভিড অতিমহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ আসায় দেশের অর্থনীতিতে একপ্রকার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। বেসরকারি ক্ষেত্রে চাহিদা বাড়লে তবেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।