দ্য ওয়াল ব্যুরো: যক্ষ্মার টিকায় কোভিড-১৯ সংক্রমণও কমতে পারে, এমন দাবি করেছিলেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। যক্ষ্মা (Tuberculosis) প্রতিরোধক ‘ব্যাসিলাস ক্যালমেট গেরান’ (বিসিজি)করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে কতটা উপযোগী হতে পারে, এই নিয়ে গবেষণাও চলছে বিশ্বজুড়ে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, বিসিজি ভ্যাকসিন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপর কতটা কার্যকরি হয়েছে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। গবেষণা চলছে আইসিএমআরে। সঠিক রিপোর্ট পাওয়ার পরেই তবে এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
আইসিএমআরের গবেষক ডক্টর নিবেদিতা গুপ্ত বলেছেন, টাস্ক ফোর্স ও অন্যান্য বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ‘নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (এনওয়াইআইটি)বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে ঠেকাতে পারে বিসিজি ভ্যাকসিন। এমনকি মার্কিন বিজ্ঞানীরা এও দাবি করেছেন, যে সব দেশে শিশু জন্মের পরে যক্ষ্মার টিকাকরণের ব্যবস্থা নেই, সেই সব দেশে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেশি, যেমন আমেরিকা, ইতালি। ডক্টর নিবেদিতা বলছেন, ৬০ বছর বয়সী বা তার বেশি বয়সের করোনা আক্রান্ত রোগীদের উপর খুব বেশি প্রভাব দেখা যায়নি এই ভ্যাকসিনের। সব বয়সের রোগীদের উপরে বিসিজি ভ্যাকসিন কীভাবে কাজ করবে সেটা আরও বেশি গবেষণা ও বহুবার ট্রায়ালের পরেই জানা যাবে।
আইসিএমআর জানিয়েছেন, এখনও অবধি বিশ্বের ছ’টি দেশে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও করোনা রোগীদের কাছাকাছি রয়েছেন এমন মানুষজনের উপরে বিসিজি ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে। তাতে কতটা সাফল্য মিলেছে সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে ভারতে এই ভ্যাকসিন নিয়ে আরও জোরদার গবেষণা হচ্ছে। যদি ট্রায়ালে সাফল্য মেলে তাহলে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী যাঁরা ঝুঁকি নিয়ে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করছেন, তাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়ানো যাবে।
১৯১৯ সালে প্যারিসের পাস্তুর ইনস্টিটিউটে যক্ষ্মা রোগের এই প্রতিষেধকটি আবিষ্কার করেন ক্যামিল গেরান ও অ্যালবার্ট ক্যালমেট। ১৯২১ সালে প্রথম এই ভ্যাকসিন মানুষের উপরে প্রয়োগ করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধই নয়, এই ভ্যাকসিন শিশু মৃত্যুর হারও কমায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। টিউবারকিউলোসিস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামক স্ট্রেনগুলোকে অকেজো করতে পারে এই ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগে শরীরে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি হয় যা টিউবারকিউলোসিস ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। তবে করোনা আক্রান্তদের উপরে এই ভ্যাকসিন একইভাবে কাজ করবে কিনা সেটা এখনও পরীক্ষার স্তরেই আছে।
‘নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-র বিজ্ঞানী গোঞ্জালো ওতাজু দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কতজনের মৃত্যু হচ্ছে ও কতজন আক্রান্ত তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক আছে বিসিজি ভ্যাকসিনের। তাঁর দাবি, আমেরিকা ও ইতালিতে এই ভ্যাকসিনের ব্যবহার নেই বা কম, তাই এই দুই দেশে সংক্রমণে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। অন্যদিকে, ফ্রান্স, ব্রিটেন, স্পেন, জার্মানি আগে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করলেও পরে বন্ধ করে দেয়। তাই সেইসব দেশেও সংক্রামিতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া করোনাকে কাবু করবে পেরেছে, কারণ তাদের দেশে বিসিজি ভ্যাকসিনের প্রয়োগ আছে।
পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এই বিসিজি ভ্যাকসিনেরই নয়া ভার্সন তৈরি করেছে বলে খবর। এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালও শুরু হবে।