
শেষ আপডেট: 17 August 2019 06:21
প্রশান্তের কথায়, "দেখে আমাদের এত আতঙ্ক হলো যে আমরা প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে রিসার্চ শুরু করলাম। আমাদের মনে হলো একে বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করলে এই জিনিসটাকে অনেক ঠিক ভাবে ব্যবহার করা যাবে। ঠিক করলাম, একটা বাড়ি বানাবো শুধু এই দিয়েই। আমরা প্লাইউড ব্যবহার না করে দুধের প্যাকেট থেকে তৈরি প্লাস্টিক প্ল্যাংক বানালাম। এই বস্তুটি টয়লেট, বাস শেল্টার এ ব্যবহার করা যায়। আসবাব, বেঞ্চ বানানো যায়।"
প্লাস্টিকের বর্জ্য ব্যবহার করে প্রথম বাড়িটা তাঁরা বানান হায়দরাবাদের উপ্পল এলাকায়, যেটাতে ব্যবহার হয়েছে ৭০০ টন প্লাস্টিক। প্রশান্ত বলছেন, " ভাবুন তো এত টা প্লাস্টিক আমরা দূষণ ঘটানো থেকে বাঁচালাম।" তিনি আরো আশ্বস্ত করছেন, এই বাড়ি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ইট বালি সিমেন্টের বাড়ির থেকে এই বাড়ি কোনও অংশে কম মজবুত নয়। তিনি বোঝাচ্ছেন, একটা সাধারণ বাড়ি করতে যেখানে কম করেও তিরিশ-চল্লিশ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়, সেখানে এর খরচ মাত্র ৭০০ টাকা প্রতি বর্গফুট। এই বাড়ি ওয়াটার, হিট আর ফায়ার রেসিস্টান্টও বটে। টিকবে প্রায় চল্লিশ বছর। তিনি আরও জানান, তেলেঙ্গানার কিছু স্কুলও তাঁদের বেঞ্চ বানানোর অর্ডার দিচ্ছে।
লিঙ্গমের বক্তব্য, প্লাস্টিক খারাপ জিনিস নয়। এটা একটা আশ্চর্য আবিষ্কার। কিন্তু এটা আজ আমাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুটো কারণে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ছড়ানো ও ফেলা। এবং এর অপব্যবহার। তাঁর ধারণা, যতই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক, প্লাস্টিক দূষণ ততদিন পুরো এড়ানো যাবে না, যতদিন এর যেখানে সেখানে ছড়িয়ে থাকা বন্ধ না করা যায়। তাই গুরুত্ব দিতে হবে বর্জ্য প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহারেই। প্রসঙ্গত উনি আরও জানালেন, টুথব্রাশ, বালতি, মগের মতো শক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার করে ওঁরা ফুটপাথও বানিয়ে ফেলেছেন। সুতরাং ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। প্লাস্টিক এখন তো অভিশাপ হয়ে গেছে, চাইলেই একে সমাজের স্বার্থে কাজে লাগানো যেতেই পারে।