
শেষ আপডেট: 24 September 2021 15:29
রফিকুল জামাদার
৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন (By election)। সেখানে প্রার্থী স্বয়ং মমতা বন্দোপাধ্যায়। উল্টোদিকে বিজেপির আইনজীবী প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টেবরিওয়াল। বামেরা প্রার্থী করেছেন আইনজীবী শ্রীজিব বিশ্বাসকে। এদিকে হাইভোল্টেজ এই কেন্দ্রের ভোট নিয়ে কলকাতা পুরসভা থেকে নবান্ন কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। হাওয়া অফিসের খবর অনুযায়ী, ৩০ তারিখের নির্বাচনের আগেই তৈরি হচ্ছে জোড়া নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী শনিবার ফের ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হচ্ছে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে। দুদিনের মধ্যে এটি উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থান করবে। পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিমদিকে এগোবে এই ঘূর্ণাবর্ত। সোমবার আরও একটি ঘূর্ণাবর্তের সম্ভাবনা মধ্য বঙ্গোপসাগরে। এই ঘূর্ণাবর্তেরও অভিমুখ থাকবে বাংলা ও উড়িষ্যা উপকূল। জোড়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আশঙ্কা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যাতে। এদিকে বৃষ্টি হলেই জল জমে ভবানীপুরের বেশ কিছু এলাকায়। ক'দিনের বৃষ্টিতে এমন জল জমেছিল যে মমতার একবালপুরের কর্মসূচি বাতিল করে পরের দিন করতে হয়। ফলত এই পরিস্থিতিতে ওই কেন্দ্রে নির্বিঘ্নে ভোট করানো রাজ্য সরকারের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ কলকাতা পুরসভারও। এসব কথা মাথায় রেখে বৃষ্টি ভবানীপুরকে জল জমা থেকে বাঁচাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করছে কলকাতা পুরসভা। দফায় দফায় চলছে পুর আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক। পুরসভার নিকাশি বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে বা পরে ভারী বৃষ্টি হলেও যাতে সঙ্গে সঙ্গে জল বের করে দেওয়া যায় তার জন্য ভবানীপুরের জন্য অতিরিক্ত ব্যব্যস্থা নিচ্ছে পুরসভা। তবে শুধু ভবানীপুর না জোড়া নিম্নচাপের কথা মাথায় রেখে শহর জুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৪০০টি অতিরিক্ত পাম্প তৈরী রাখছে পুরসভা। আর নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর শুধু ভবানীপুরের জন্য প্রায় ৩০টি অতিরিক্ত পাম্প রেডি রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে। শুধু তাই নয় একাধিক এলাকায় ম্যানহোল খুলে জল নামানো কীভাবে যায় তাও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, নির্বাচনের দিন ভবানীপুরের চারটি স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন এবং পকেট লগগুলি খোলা থাকবে ২৪ ঘন্টা। গোটা দিন সেখানে উপস্থিত থাকবেন কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের আধিকারিকরা। বিরোধীরা নির্বাচনী জরুরি পরিস্থিতির কথা মেনে নিয়েও বলছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী বলেই পুরসভা ও নবান্নের এত তৎপরতা। বাকি যে দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে, সেখানে প্রশাসনের এমন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যদিও দুর্যোগের পূর্বাভাস থেকে কোনও এলাকাই মুক্ত নয়। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই নবান্ন ভবানীপুরের জন্য এনডিআরএফ প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ভারী বৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে জল নামাতে প্রয়োজন পড়লে বোটও নামানো হবে বলে জানা গিয়েছে কলকাতা পুরসভা সূত্রে। এখানে বলে রাখা ভাল এনডিআরএফ টিম থাকলে তাদের ইকুইপমেন্টের মধ্যে বোট থাকেই। তবে এক সরকারি আধিকারিকের মতে, বোট নামানোর মতো হয়তো পরিস্থিতি হবে না। জল জমলে অতিরিক্ত পাম্পের মাধ্যমেই জল নামিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার তরফে ইতিমধ্যেই সেচ দফতরকে কলকাতা সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলিকে পুরোপুরি পরিষ্কার রাখার কথা জানিয়েছে। যাতে শহরের জমা জল পাশ হতে কোনও সমস্যা না তৈরি হয়।