দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেরল, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, ওড়িশা, ছত্তিসগড় এবং মণিপুর। গত কয়েক সপ্তাহে এই ছ’টি রাজ্যে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ। পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য ওই রাজ্যগুলিতে উচ্চ পর্যায়ের মেডিক্যাল টিম পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কোভিড নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রককে সাহায্য করবে ওই টিমগুলি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে শুক্রবার একথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ওই টিমগুলি ছ’টি রাজ্যে গিয়ে খতিয়ে দেখবে সেখানে কোভিড নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষত টেস্টিং যথেষ্ট সংখ্যায় হচ্ছে কিনা, ঠিকমতো কনটেনমেন্ট জোন তৈরি করা হয়েছে কিনা, সেদিকে নজর দেবেন টিমের সদস্যরা। রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে কতগুলি বেড আছে, যথেষ্ট সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স, ভেন্টিলেটর, মেডিক্যাল অক্সিজেন ইত্যাদি আছে কিনা, সেদিকেও লক্ষ রাখা হবে। কীভাবে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ কমানো যায়, সে বিষয়েও পরামর্শ দেবেন টিমের সদস্যরা।
শুক্রবার সকালে ভারতে কোভিডে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে চার লক্ষ। গত ৩৯ দিনে মারা গিয়েছেন ১ লক্ষ মানুষ। তবে কোভিডে যে ১০ টি দেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ভারতেই প্রতি ১০ লক্ষ রোগীর মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে কম।
ভারতে টিকাকরণ নিয়ে যাঁরা সমালোচনা করছেন, বৃহস্পতিবার তাঁদের উদ্দেশে তোপ দাগেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। বেশ কয়েকটি টুইট করে তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা এখন আতঙ্ক ছড়াতে বেশি শক্তিক্ষয় করছেন। এর বদলে তাঁরা টিকাকরণের জন্য উদ্যোগ নিলে ভাল করতেন।” গত ২১ জুন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস থেকে নতুন ভ্যাকসিন পলিসি চালু হয়েছে দেশে। কেন্দ্রীয় সরকার টিকাকরণের পুরো উদ্যোগ নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। রাজ্যগুলিকে এখন কোভিড ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত সপ্তাহেই দেশ জুড়ে তিন কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। টিকাকরণের ক্ষেত্রে এই ঘটনা এক মাইলস্টোন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “টিকাকরণ নিয়ে এখনও যদি কোনও সমস্যা থাকে, তাহলে তার জন্য দায়ী রাজ্য।” হর্ষবর্ধন কোনও নেতার নাম না করে বলেন, “আমি দেখতে পাচ্ছি, টিকাকরণ নিয়ে কয়েকজন নেতা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন। মানুষ সহজেই এই নেতাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সরকার ৭৫ শতাংশ ভ্যাকসিন দিচ্ছে বিনামূল্যে। এর ফলে জুন মাসে ১১ কোটি ৫০ লক্ষ ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।”