
শেষ আপডেট: 29 December 2023 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েকমাস ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডালের দাম। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যশস্যের দাম গত কয়েকমাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে অড়হড়, বিউলির মতো ডালগুলির আমদানি শুল্ক তুলে দেওয়ার মেয়াদও শেষ হতে যাচ্ছিল। সেক্ষেত্রে দেশের বাজারে ডালের দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সূত্রের খবর, বিষয়টি আন্দাজ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অড়হড ও বিউলির ডালের উপর আমদানি শুল্ক তুলে দেওয়ার মেয়াদ ছিল। বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে বৈঠকে বসেছিল ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড।
সেখানেই সংশ্লিষ্ট দুটি খাদ্যশস্যের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ তুলে দেওয়ার সময়সীমা আরও এক বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত শুল্ক কর চাপবে না। কয়েকদিন আগে মুসুরডালের ক্ষেত্রেই একই সিদ্ধা্ন্ত নিয়েছিল কেন্দ্র।
যদিও ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সামনে ভোট। সেক্ষেত্রে ফের ডালের দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব পড়তে পারে ভোট ব্যাঙ্কেও। সেদিকে খেয়াল রেখেই ডালের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির ওপরে পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র।
ওই মহলের মতে, গত বছরের ডিসেম্বরে যেখানে কেজি প্রতি অড়হর ডালের গড় দাম ছিল ১১১-১১২ টাকা, চলতি বছরের ডিসেম্বরে কেজি প্রতি সেই দামই বেড়ে হয়েছে ১৫২-১৫৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে অড়হড় ডালের দাম প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে প্রায় ৩০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি হয়েছে বিউলির ডালেরও।
ডালের এই লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির কারণ কী? বিশেষজ্ঞদের একাংশ পরিস্থিতির জন্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার জেরে এখন অসময়েও বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে অন্যান্য খাদ্যশস্যের মতো ডাল উৎপাদনও ধাক্কা খাচ্ছে। ফলে চাহিদা জোগানের ভারসাম্য থাকছে না। ডালের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে এটিও একটি বড় কারণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
এমন অবস্থায় সরকার শুল্কের মেয়াদ আরও ১ বছরের জন্য না তুলে দিলে ডালের দাম আরও বৃদ্ধি পেত বলেই মনে করা হচ্ছে।