নির্দেশ হাতে নিয়ে নতুন স্কুলে পৌঁছতেই বিপত্তি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে কোনও শূন্যপদই নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে - যেখানে পদ খালি নয়, সেখানে বদলির অনুমোদন এল কীভাবে?

বিচারপতি অমৃতা সিনহা
শেষ আপডেট: 18 February 2026 17:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শূন্যপদ (SSC Vacancy) আছে কিনা তা যাচাই না করেই বদলির নির্দেশ! স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Justice Amrita Sinha) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রশাসনিক অব্যবস্থার খেসারত কোনও কর্মী দেবেন তা হবে না।
মামলার সূত্রপাত বীরভূমের বাসিন্দা পার্থসারথি দলুইকে ঘিরে। ২০১৩ সালে গ্রুপ-ডি পদে চাকরি (Group D Post) পান তিনি। কর্মস্থল ছিল বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে। দীর্ঘদিন সেই দূরত্ব সামলেও ২০২০ সালে শারীরিক অসুস্থতা এবং স্ত্রীর গুরুতর কিডনি সমস্যার কারণে বাড়ির কাছাকাছি কোনও স্কুলে বদলির আবেদন জানান। স্কুল শিক্ষা দফতরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা পড়ে। পরে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে তাঁকে নিকটবর্তী একটি স্কুলে যোগদানের নির্দেশ দেয়।
কিন্তু নির্দেশ হাতে নিয়ে নতুন স্কুলে পৌঁছতেই বিপত্তি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে কোনও শূন্যপদই নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে - যেখানে পদ খালি নয়, সেখানে বদলির অনুমোদন এল কীভাবে?
এই অসঙ্গতি নিয়ে জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং এসএসসি চেয়ারম্যানের দফতরে একাধিকবার দরবার করেন পার্থসারথি। অভিযোগ, তাঁর কোনও আবেদনেই স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। পরিস্থিতির জট কাটাতে শেষ পর্যন্ত তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
শুনানিতে তাঁর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং নিয়ম মেনেই বদলির আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই না করেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যেখানে শূন্যপদ নেই, সেখানে একজন কর্মীকে পাঠিয়ে কার্যত তাঁকে অনিশ্চয়তায় ফেলা হয়েছে। আদালতের কাছে আর্জি জানানো হয়, যথাযথ শূন্যপদযুক্ত স্কুলে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হোক।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, শূন্যপদের মতো মৌলিক তথ্য যাচাই না করে বদলির নির্দেশ জারি হওয়া প্রশাসনিক গাফিলতির উদাহরণ। এভাবে কোনও কর্মীকে ঝুলিয়ে রাখা যায় না। আদালত স্পষ্ট জানায়, বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্ব।
শেষ পর্যন্ত আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত উপযুক্ত শূন্যপদ রয়েছে এমন কোনও স্কুলে পার্থসারথির বদলির ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।