দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রথম ‘গার্বেজ কাফে’ তৈরি হচ্ছে ছত্তিশগড়ে। কিন্তু কী এই গার্বেজ কাফে? সারা বিশ্ব যখন প্লাস্টিকের চাদরে মুড়ে যাচ্ছে, তখন এই কাফে সেই রাজ্যের অম্বিকাপুর পৌরসভার একটি অভিনব প্রয়াস। দেশের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর শহরের প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ছত্তিশগড়ের এই শহরটি। ইন্দোরের পরেই এর স্থান।
আমরা অনেকেই যা খাচ্ছি, তার প্লাস্টিকের মোড়কটা ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছি রাস্তায়। কী হয় তারপর, আর খোঁজ রাখার দরকার মনে করি না। যাঁরা শহর পরিষ্কার করেন রোজ সকালে, আবর্জনার কাগজগুলো কুড়িয়ে নেন সকাল জুড়ে, তাঁদের জন্য এই কাফের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবার। এঁদেরই কেউ যদি ১ কেজি প্লাস্টিক খুঁজে জড়ো করে নিয়ে জমা দিতে পারেন, তিনি এক বেলার খাবার বিনা মূল্যে পাবেন। আবার যদি কারও জমা করা প্লাস্টিকের পরিমাণ হয় ৫০০ গ্রাম, তাঁর জন্য এই কাফেতে থাকবে পেট পুরে জলখাবারের ব্যাবস্থা। এই গরিব মানুষগুলোর মুখে খাবারও উঠবে, আর সারা শহরও প্লাস্টিকমুক্ত থাকবে। এই অসাধারণ ভাবনা নিয়ে সারা শহরকে আরও অনেকটা সুন্দর করে তুলতে আগ্রহী হয়েছেন অম্বিকাপুরের পৌরসভার মেয়র অজয় তিরকে। তিনি তাঁর এই প্রস্তাব এনেছেন পৌরসভার বাজেট ঘোষণার সময়ে। অম্বিকাপুর বাসস্ট্যাণ্ডে তৈরি হবে এই কাফে। এই কাফের জন্য সরকারি খাত থেকে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গত বছর এই শহর পরিচ্ছন্নতার বিচারে যেখানে ৪০ তম স্থানে ছিল, সেখানে এবার দু নম্বর জায়গায় উঠে এসেছে। যে মানুষগুলো রোজ রাস্তা পরিষ্কার করে, আমাদের জন্য সহজ করে দেয় রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা, তাঁদের একটু খাবারের ব্যবস্থা আর বিশ্রামের বন্দোবস্ত এখানে যেমন গুরুত্ব পাচ্ছে, তেমনি গুরুত্ব পাচ্ছে প্লাস্টিকের দূষণ রোধ করা।
এখন এই এত প্লাস্টিক যাবে কোথায়? ইতিমধ্যেই অম্বিকাপুরে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে রাস্তা তৈরির কাজে। প্লাস্টিকের গ্রানিউল এবং অ্যাসফল্টের ব্যবহার করে ওই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সেই রাস্তা তৈরি করতে ৮ লক্ষ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছিল। অ্যাসফল্ট মিশিয়ে সেই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিককে এমনভাবে মেশানো হয়েছিল যাতে তার উপরে জল পড়লেও সমস্যা না হয়। আপাতত সারা দেশ জুড়ে স্বচ্ছ ভারত তৈরির যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তাতে এই উদ্যোগ যে স্বাভাবিকভাবেই সদর্থক প্রভাব ফেলবে তা বলাই বাহুল্য।