
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 15 April 2025 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের (Hospital) পরিবর্তে সাপে কাটা (Snake Bite) রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ওঝার কাছে। ঘণ্টা কয়েক ধরে চলে ঝাড়ফুঁকও। ওঝার কেরামতি ব্যর্থ হওয়ায় হাসপাতালে যখন নিয়ে যাওয়া হল, ততক্ষণে সব শেষ।
উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া থানার আটপুকুর ষষ্ঠীতলা গ্রামের ঘটনা। নাবালকের মৃত্যুর জন্য পরিবারকেই দুষছেন স্থানীয়রা। ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য হাজি নবাব আলি মোল্লা।
তিনি বলেন, "আমি যতক্ষণে জেনেছি, ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। সাপে কাটা রোগীর জন্য সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও কেন যে অনেকে পুরনো মানসিকতা আঁকড়ে ওঝার কাছে ছুটে যান! ছেলেটাকে যদি সময়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হত, তাহলে এভাবে মারা যেত না!”
ঘটনার পর থেকে মৃত নাবালকের মা, বাবা বারে বারে সংজ্ঞা হারাচ্ছেন। তাঁরা কেউই কথা বলার অবস্থায় নেই। স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার পর থেকেই ওঝা গা ঢাকা দিয়েছে। নাবালক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে ঘরের পাশের বাগানে খেলছিল নাবালকটি। আচমকা তাকে সাপে কামড়ে দেয়। তখনই স্থানীয়দের কেউ কেউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে সে কথায় কান না দিয়ে পরিবারের লোকেরা শিশুটিকে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যায়। ঝাঁড়ফুকেও কাজ না হওয়ায় রাতে নাবালকটিকে নিয়ে যাওয়া হয় হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকরা জানান, পরিবারের লোকেরা অনেকটা সময় দেরি করে ফেলেছেন। সাপে কাটার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে এলে বেঁচে যেত। নাবালকের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে সচেতনতা বাড়াতে এলাতকায় শিবির করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য।