দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েক মাস ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির অন্যান্য নেতা বলে এসেছেন, বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসছেন। কিন্তু পঞ্চম দফা ভোটদানের সময় ভিন্ন সুরে মন্তব্য করলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা রাম মাধব। তাঁর ধারণা, বিজেপি একা এবার সরকার গড়ার মতো গরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে। সেক্ষেত্রে শরিক দলগুলির সমর্থন ছাড়া বিজেপি সরকার গড়তে পারবে না।
এক সাক্ষাৎকারে বিজেপির ন্যাশনাল জেনারেল সেক্রেটারি রাম মাধব বলেন, আমরা একা যদি ২৭১ আসন পাই, তা হলেই খুশি হব। তাহলে এনডিএ-র অন্যান্য শরিককে নিয়ে আমরা সরকার গঠন করতে পারব।
রাম মাধবের আশঙ্কা, ২০১৪ সালে উত্তর ভারতের যে আসনগুলিতে বিজেপি ভালো ফল করেছিল, এবার সেখানে অত আসন পাবে না। তবে উত্তর-পূর্ব ভারত, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় বিজেপি আগের চেয়ে ভালো ফল করবে।
তিনি জানিয়ে দেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি চেষ্টা করবে যাতে অর্থনীতির বিকাশ হয়। অর্থনৈতিক সংস্কার বাদ দিয়ে জনমোহিনী কর্মসূচির দিকে ঝুঁকবে না।
পাকিস্তান নিয়েও দলের অন্যান্য নেতার থেকে ভিন্ন সুরে মন্তব্য করেছেন রাম মাধব। কিছুদিন আগে ভাদোহিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী জনসভায় উত্তরপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য বলেন, ২০১৪ সালে দেশে মোদী ঢেউ ছিল, এবার দেশে সৃষ্টি হয়েছে মোদী সুনামি। উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পদ্মফুলে ভোট দেওয়া মানে সন্ত্রাসবাদীদের শিবিরে এক হাজার কেজি বোমা ফেলা। পরে মোদী সেই সভায় প্রশ্ন করেন, ভারতের এই সাফল্যের মূলে কে আছে? জনতা চেঁচিয়ে ওঠে, মোদী মোদী!
রাম মাধব কিন্তু আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী দিনে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ভালো হতে পারে। সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে জইশ ই মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করেছে। রাম মাধব সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ইসলামাবাদ প্রমাণ করুক, তারা জঙ্গিদমনে আন্তরিক। তারা যদি প্রমাণ করতে পারে, সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে, তাহলে মোদীর সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বৈঠক হতে পারে।
কিছুদিনের মধ্যেই সাংহাই কো অপারেশনের বৈঠকে যোগ দেবেন মোদী। সেখানে আসবেন ইমরানও। মাধব ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেই বৈঠকের এক ফাঁকে দু’জন আলোচনায় বসতে পারেন। কিন্তু সবটাই নির্ভর করছে পাকিস্তানের ওপরে।