উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর (Rajarhat Gopalpur) কেন্দ্রের তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের প্রার্থী অদিতি মুন্সির (Aditi Munsi) প্রচারে নাইজেরিয়ানদের অংশ নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছে পদ্ম শিবির।

অদিতি মুন্সি
শেষ আপডেট: 13 April 2026 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের প্রচারে (Election Campaign) সাধারণ মানুষ, দলের কর্মী-সমর্থকরা মিছিল করবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিদেশিদের দিয়ে প্রচার চালানো..., এমনই অভিযোগ তুলে তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে সরব হল বিজেপি (BJP)। উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুর (Rajarhat Gopalpur) কেন্দ্রের তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের প্রার্থী অদিতি মুন্সির (Aditi Munsi) প্রচারে নাইজেরিয়ানদের অংশ নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছে পদ্ম শিবির। সোমবার এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (Election Commssion)।
বিজেপির অভিযোগ, রাজরহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের (এসি-১১৭) একাধিক জনসভা ও র্যালিতে নাইজেরিয়ানদের দেখা গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিও-র (যার সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি) কথা উল্লেখ করে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ওই বিদেশি নাগরিকরা তৃণমূলের লোগো দেওয়া ব্যাজ পরেছিলেন এবং হাতে শাসকদলের পতাকা নিয়ে প্রার্থীদের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
বিজেপির (BJP) বক্তব্য, সংবিধানের ৩২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারতে ভোটাধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার কেবলমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই রয়েছে। ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬ এবং রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপল অ্যাক্ট, ১৯৫১-এর বিভিন্ন ধারা উদ্ধৃত করে বিজেপি দাবি করেছে, কোনও বিদেশি নাগরিক ভারতে এসে নির্দিষ্ট ভিসা শর্ত লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক প্রচার চালাতে পারেন না। চিঠিতে বিষয়টিকে ‘দুর্নীতিমূলক কাজ’ বা ‘করাপ্ট প্র্যাকটিস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কমিশনের কাছে বিজেপির পক্ষ থেকে মূলত তিনটি দাবি জানানো হয়েছে:
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে প্রার্থী অদিতি মুন্সির ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, যাঁদের ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাঁরা আসলে স্থানীয় একটি ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নাইজেরীয় খেলোয়াড়। প্রচারের সময় ঘটনাচক্রে তাঁরা মিছিলে পড়ে যেতে পারেন, এর সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে প্রচারে অংশ নেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি তাঁদের। এই নিয়ে সিইও অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এবং শিশির বাজোরিয়া।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ফের উঠে আসছে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়কার বিতর্ক। সেই সময় বাংলাদেশের অভিনেতা ফিরদৌস আহমেদ তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছিল, ব্যবসায়িক ভিসায় ভারতে এসে তিনি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। পরে এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।