দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) পেজ থেকে করা সেই পোস্টে একদিকে যেমন ভোটারদের অভয় দেওয়া হয়েছে, তেমনই অপরাধীদের উদ্দেশে ধেয়ে গিয়েছে কড়া বার্তা। আর সেই বার্তায় ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’-এর অনুষঙ্গ টেনেই শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 13 April 2026 16:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। ১০ দিনের মাথায় প্রথম দফার নির্বাচন। এখন প্রচারের ময়দানে যখন একে অপরকে টেক্কা দিতে ব্যস্ত শাসক-বিরোধী সব পক্ষ। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেনজির পোস্ট করে নজর কাড়ল নির্বাচন কমিশন (ECI)। দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) পেজ থেকে করা সেই পোস্টে একদিকে যেমন ভোটারদের অভয় দেওয়া হয়েছে, তেমনই অপরাধীদের উদ্দেশে ধেয়ে গিয়েছে কড়া বার্তা। আর সেই বার্তায় ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’-এর অনুষঙ্গ টেনেই শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।
আমির-মাধুরী ও কমিশনের ‘রসবোধ’
কমিশনের ওই পোস্টে আমির খান ও মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত সিনেমার সেই বিখ্যাত গানের লিঙ্ক দেওয়া হয়েছে— ‘হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে, দুনিয়া সে না ডরনে ওয়ালে... ইয়ার জ্বলনে ওয়ালে কো জ্বালায়েঙ্গে।’ সচরাচর প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে যে গাম্ভীর্য দেখা যায়, তাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কমিশনের এই ‘ফিল্মি’ মেজাজ অবাক করাই বটে।

পোস্টের ক্যাপশনে ভোটারদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে, “সকল মা, বোন ও ভাইদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।” এর পরেই সুর চড়িয়ে সমাজবিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখা হয়েছে, “কিছু লোক এতে জ্বলতে পারে। গুন্ডা, অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না হলে উত্তাপ এতটাই বাড়বে যে আপনারা পুড়ে যাবেন।” কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভোটে কেউ বাধা দিলে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যেখানে ওই মলমও কোনও কাজে আসবে না।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও পাল্টা খোঁচা
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পোস্ট আদতে নিছক রসবোধ নয়, বরং শাসকদলের প্রতি এক সূক্ষ্ম পাল্টা জবাব। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক রদবদল বা এসআইআর তালিকা নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধেও। এই আবহে নাম না করে তৃণমূলের সেই আক্রমণের জবাবেই কি এই ‘বার্নল-বোরোলিন’ খোঁচা? প্রশ্ন উঠছে।
প্রচারে বেরিয়ে প্রার্থীদের কেউ রুটি বেলছেন, কেউ বা পুকুরে জাল ফেলছেন। ভোটের এই ‘অভিনবত্ব’ যখন চরমে, তখন কমিশনের এমন ছকভাঙা প্রচার নিয়ে হাসাহাসিও চলছে। তবে বার্তার গভীরে যে কঠোর প্রশাসনিক সঙ্কেত লুকানো আছে, তা বুঝতে বাকি নেই কারও। কমিশনের স্পষ্ট ইঙ্গিত— তপ্ত বাংলায় ভোটের উত্তাপ বাড়লে দহন কেবল অপরাধীদেরই হবে।