সম্প্রতি SIR এর কাজ শুরুর পর বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। শোভানারা জানান, শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে প্রথমে এই কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন তিনি। প্রশাসনিকভাবে তেমন উদ্যোগ চোখে না পড়ায় আর আপত্তি জানাননি। রাজ্যজুড়ে SIR এর কাজ শুরু হতেই কোমর বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

শেষ আপডেট: 28 November 2025 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো,বাঁকুড়া: SIR এর কাজ করতে গিয়ে চাপে কোথাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বিএলও। অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। কাজের চাপে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন অনেকে। কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চলছে ধর্নাও। এরই মাঝে ব্যতিক্রমী ছবি বাঁকুড়ায়। জন্ম থেকে এক পা নেই। অন্য পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে নিজের এলাকার এসআইআর এর কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ সেরে ফেললেন বিশেষভাবে সক্ষম আইসিডিএস কর্মী শোভানারা বায়েন।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের বেলশুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জামশুলি গ্রামে শোভানারার জন্ম। প্রথম থেকেই তিনি বিশেষভাবে সক্ষম। তাঁর একটি পা হাঁটুর নীচ থেকে নেই। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি শোভানারাকে। অদম্য জেদে লেখাপড়া করে স্নাতকোত্তর বিএড সেরে ফেলেছেন শোভানারা। তারপর গ্রামেই আইসিডিএস কর্মী হিসাবে কাজ করেন।
সম্প্রতি SIR এর কাজ শুরুর পর বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। শোভানারা জানান, শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়ে প্রথমে এই কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন তিনি। প্রশাসনিকভাবে তেমন উদ্যোগ চোখে না পড়ায় আর আপত্তি জানাননি। রাজ্যজুড়ে SIR এর কাজ শুরু হতেই কোমর বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দায়িত্ব পাওয়া নিজের গ্রাম জামশুলির ২৩৮ নম্বর বুথের ১০৩৯ জন ভোটারের বাড়ি বাড়ি ঘুরে এস আই আর এর ফর্ম বিলি করেন তিনি।
গ্রামের আইসিডিএস কেন্দ্রে নিয়মিত কাজ সেরে এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফর্ম সংগ্রহের কাজও শুরু করেন কমিশনের বিধি মেনে। শোভনারা বলেন, "সকাল থেকে টানা কাজ করে বিকেলে বাড়িতে ফিরে স্নান খাওয়া সেরে বসে পড়ি। এরপর শুরু করি ফর্মের তথ্য কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোডের কাজ। গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেই কাজ চলে।"
এভাবে লাগাতার কাজ করে ইতিমধ্যেই এলাকার ৯৯ শতাংশ ভোটারের কাছ থেকে গণনা ফর্ম সংগ্রহ করে তা কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করে ফেলেছেন শোভানারা। শারীরিক বাধা টপকে শোভানারার এমন কৃতিত্ব প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রশাসনের। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মতোই এক্ষেত্রেও কোনও অজুহাত বা প্রশংসার তোয়াক্কা না করেই বাকি কাজটুকু দ্রুত সেরে ফেলতে এখন এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শোভানারা। শোভানারার এমন কাজে অনুপ্রানিত আশপাশের বিএলও ও স্থানীয় ভোটাররাও।