বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ হয়। কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশে বেলডাঙা ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে দিয়েছিল, তাতে আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 February 2026 13:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেলডাঙা অশান্তি (Beldanga Incident) মামলায় সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) হস্তক্ষেপের পর নতুন মোড়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে মামলাটি ফের কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানের রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে হাইকোর্টে জমা দেবে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী নির্দেশ দেবে উচ্চ আদালত।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের (State Govt) আবেদন খারিজ হয়। কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশে বেলডাঙা ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে দিয়েছিল, তাতে আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ তদন্ত আগের মতোই চলবে। তবে রাজ্য সরকার চাইলে হাইকোর্টের কাছেই তাদের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাতে পারবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, ঘটনাস্থলে অবরোধ হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন ব্যাহত হয়েছিল - এ তথ্য অস্বীকার করা যায় না। পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয় আদালত।
এদিকে এনআইএ আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার অশান্তির সময় মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। একাধিক দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়, পেট্রোল ব্যবহার করে আগুন লাগানোর অভিযোগও রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকার সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তাদের আরও অভিযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য হস্তান্তরে রাজ্য প্রশাসনের তরফে সহযোগিতা মিলছে না।
এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, রাজ্যকে তথ্য সরবরাহের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টেই দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র (Beldanga Clash) করে। ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ওই যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের দাবি ছিল, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে এবং পরে আত্মহত্যা বোঝাতে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আরও অভিযোগ ওঠে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়ায় লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছিল।
এই অভিযোগ ঘিরেই গত ১৬ জানুয়ারি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা (Beldanga Clash)। সুজাপুর-কুমারপুর এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেল রোকো, ট্রেন থামিয়ে প্রতিবাদ—ক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভাঙচুর, সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও উত্তেজনা থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।