
সাপে কামড়ানোয় এক্স-রে!
শেষ আপডেট: 29 August 2024 10:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: খেলা করার সময়ে চার বছরের শিশুর হাতে কিছু কামড়ে দিয়েছিল। ছেলের আঙুলে রক্ত দেখে মলম লাগিয়ে দিয়েছিলেন মা। এরপরে ছেলে অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে ছিলেন। ডাক্তার দেখে এক্স-রে করাতে পাঠান। এক্স-রে করিয়ে ফেরার পথে মৃত্যু হয় শিশুর। পরে বোঝা যায়, শিশুটিকে বিষধর সাপে কামড়ে ছিল। পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসায় দেরি হওয়াতে মৃত্যু হয়েছে চার বছরের ছেলের। এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে গুসকরায়।
মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনা কেন্দ্র করে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চত্বর তেতে উঠেছিল। পরিবার পরিজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় শিশুটি মারা গিয়েছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। রাতে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমানে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম আংশু ব্যাপারী (৪)। মঙ্গলকোটের সারঙ্গপুর গ্রামের বাসিন্দা সুকান্ত ও বিথীকা ব্যাপারীর একমাত্র সন্তান ছিল সে।
ঘটনার সময় সুকান্ত তাঁর দোকানে ছিলেন। বিথীকা ছিলেন বাড়িতে। আংশু বাড়ির পাশেই খেলছিল। ওই শিশু তখন তার মাকে এসে বলে হাতে লেগেছে। আঙুল থেকে রক্ত ঝরতে দেখে বিথীকা ভেবেছিলেন কোথাও আঘাত লেগেছে। মলম লাগিয়ে দিয়েছিলেন।এরপর খাওয়া দাওয়ার পর ওই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে গুসকরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুর হাত দেখে এক্স-রে করাতে হবে বলে পরামর্শ দেন। সে মতো বিথীকা ও সুকান্ত ছেলেকে নিয়ে গুসকরায় একটি বেসরকারি সেন্টারে এক্স-রে করাতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথেই মৃত্যু হয় শিশুর। তখনই সবাই বুঝতে পারেন, শিশুকে বিষধর সাপ কামড়ে ছিল। এরপরেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা।
অভিযোগ, সাপের কামড়ের রোগীকে এক্সরে করতে পাঠিয়ে সময় নষ্ট করা হয়েছিল। চিকিৎসক ঠিকমতো পরীক্ষা না করায় শিশুটি মারা গিয়েছে। যদিও চিকিৎসকের দাবি, শিশুর বাড়ির লোকজন প্রথমে জানিয়েছিলেন খেলতে গিয়ে আঘাত লেগেছিল, তাই এক্সরে করতে পাঠানো হয়েছিল। যদিও এনিয়ে পরিবারের লোকজন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।