দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুকুমার রায় সেই কবে এই বাংলায় বসে লিখেছিলেন, 'গোঁফ গিয়েছে চুরি!' তবে অত দিন আগে তিনি এটা মজা করে লিখলেও, সত্যিই সত্যিই যে কারও গোঁফ চুরি যেতে পারে, এমনকী তিনি গোঁফ চুরির অভিযোগও দায়ের করতে পারেন পুলিশে, তা কি কেউ ভেবেছিল!
শুনতে খুবই হাস্যকর ও অবাক লাগলেও এই রকমই একটি ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের কানহান এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি স্থানীয় সেলুনে চুল-দাড়ি কাটতে গিয়েছিলেন, এলাকার বাসিন্দা ৩৫ বছরের কিরণ ঠাকুর। কিন্তু তাঁর দাবি, সেই দোকানের মালিক সুনীল লকশনে না জানিয়েই তাঁর গোঁফ কেটে দেন! কিরণের অভিযোগ, গোঁফ বাদ পড়ে যাওয়ায় রীতিমতো সঙ্কটে পড়ে গিয়েছেন তিনি। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, পরে বাড়ি গিয়ে ওই ক্ষৌরকার, সুনীলকে ফোনও করেন কিরণ। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান কিরণ। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, সেই সময় সুনীল তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।
এর পর ওই নাপিতের বিরুদ্ধে নাগপুর থানায় জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করেন কিরণ।
সুকুমার রায় ওই কবিতাতেই বলেছিলেন, "গোঁফের আমি, গোঁফের তুমি, গোঁফ দিয়ে যায় চেনা!" কবিতাটি যতই মজার হোক না কেন, গোঁফ দিয়ে এই চেনা যাওয়ার বিষয়টি আদতে অনেকটাই সত্যি। মুখ ও নাকের মাঝে কার কেমন গোঁফ রয়েছে, তা দিয়েই অনেক সময়ে নির্ধারিত হয়, তাঁকে কেমন দেখতে। এই গোঁফ অনেক সময়েই অনেকের পরিচিতিও হয়ে ওঠে। চার্লি চ্যাপলিন থেকে হিটলার, বীরাপ্পন থেকে অভিনন্দন বর্তমান-- গোঁফ দিয়েই পরিচিত হয়েছে তাঁদের মুখের আদল।
বহু দিন ধরে চেনা গোঁফ হঠাৎ না থাকলে, অনেক সময়েই চেনা মানুষকেও চিনতে অসুবিধা হয়। তাই সেই গোঁফ যদি কেউ কাউকে না জানিয়ে আচমকা কেটে দেয়, তা হলে তাতে সমস্যায় পড়তে হয় বৈকী! কিন্তু তাই বলে নাপিতের নামে এফআইআরও দায়ের করতে পারে খদ্দের! কিরণ ঠাকুরের ঘটনা বলছে, হ্যাঁ, পারে।
তবে অভিযোগ দায়েরের এই বিষয়টি জানতে পেরে রীতিমতো খেপে উঠেছেন স্থানীয় নাপিতরা। তাঁদের সংগঠন নাভিক একতা মঞ্চের তরফে কিরণকে বয়কটের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। রীতিমতো নির্দেশ জারি করা হয়েছে, এলাকার কোনও সেলুনেই যাতে কিরণকে ঢুকতে না দেওয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে নাভিক একতা মঞ্চের সভাপতি শরদ ওয়াটকর বলেন, “লকশনের বিরুদ্ধে কিরণ ঠাকুরের আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। গোঁফ কাটার আগেই কিরণকে জিজ্ঞেস করেছিলেন সুনীল। এবং গোঁফ কাটা হয়ে যাওয়ার পরে কিছু না বলে কিরণ বাড়িও চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু এর পরে, সন্ধেবেলা হঠাৎই সুনীলের দোকানে এসে ভাঙচুর চালায় কিরণ। তাই আমরা কিরণের বিরুদ্ধেও পালটা অভিযোগ করেছি। আমাদের সংগঠনের মিটিংয়ে ওকে বয়কট করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।"