.jpg)
শেষ আপডেট: 22 December 2023 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: বড়দিন এলেই একসময় কেকের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে যেত গোটা এলাকা। সমন্বয়ী বেকারির কেকের নাম ছিল গোটা জেলাজুড়েই। সে সবই এখন ইতিহাস।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ভাতার থানার ওড়গ্রামের পাউরুটি কারখানা। জেলাপরিষদ পরিচালিত এই পাউরুটি কারখানার কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে আশায় ছিলেন তাদের কারখানা আবার চালু হবে। কিন্তু অপেক্ষাই সার, তালা আর খোলেনি ওড়গ্রামের সমন্বয়ী প্রকল্পের পাউরুটি কারখানার। আটবছর ধরে কারখানার চিমনি দিয়ে ধোঁয়া উড়তে দেখেননি এলাকার মানুষ।
আটের দশকে চালু হয়েছিল এই বহুমুখী প্রকল্প। ছিল এই পাউরুটি কারখানাও। জানা গিয়েছে ৫৬ জন শ্রমিক কাজ করতেন। সমন্বয়ী প্রকল্পের পাউরুটি কারখানায় উৎপাদিত পাউরুটি বর্ধমান হাসপাতাল, জেলখানা সহ অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে এবং স্কুলে সরবরাহ করা হত। বাকি পাউরুটি, কেক, বিস্কুট ইত্যাদি আউশগ্রাম, ভাতার এলাকার বাজারগুলিতে বিক্রি করা হত। কারখানার যাঁরা কাজ করতেন তারা প্রায় সবাই ছিলেন ঠিকাশ্রমিক। তাদের মধ্যে ১৪ জন জেলাপরিষদের অন্যান্য প্রকল্পে কাজ করছেন। বাকিরা কেউ কাজ ছেড়ে জনমজুরি করেন। দু চারজন সমন্বয়ী প্রকল্পের যে জমিজমা রয়েছে তাতে চাষের কাজে লেগেছেন।
এখানকার প্রাক্তন কর্মী মহসিন চৌধুরী বলেন, “শুধু কেকই নামকরা ছিল না। বানানো হত লেড়ুয়া, রুটি, লম্বু আর স্লাইস রুটিও। এত চাহিদা ছিল যে দিয়ে শেষ করা যেত না। বড়দিন এলে সুগন্ধে ম-ম করতো এলাকা। এখন মেশিন থেকে গাড়ি জং ধরে গেছে পড়ে থেকে থেকে।” আর এক প্রাক্তন কর্মী সুকুমার দাস বলেন, “এখন মাঠে কাজ করি। আগে গুসকরা, গলসি, আউশগ্রাম, ভাতার সর্বত্র এখানকার রুটি আর কেকের চাহিদা ছিল। অনেক হকার এই রুটি বেচে সংসার চালাত। বড়দিনের সময় লাইন পড়ে যেত কেক কিনতে।”
এই বেকারির কেক, রুটি বিক্রি করতেন শ্যামাপদ রক্ষিত। তাঁর কথায়, “সেই স্বাদ মুখে লেগে আছে। আর পাঁচটা বেকারির চেয়ে মানও ভাল ছিল। বিক্রি করার পাশাপাশি নিজের ঘরেও খেয়েছি।” বড়দিনের কেকের চাহিদা বাড়ে। তা সামাল দিতে বিরাম পেতেন না কারখানার শ্রমিকরা। এখন সেই অতীত দিনের হারানো দিনের কথাই মনে পড়ে ওড়গ্রাম পাউরুটি কারখানার শ্রমিকদের। বড়দিন এলেই চলে স্মৃতি রোমন্থনের পালা।