দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার কোভ্যাকসিনকে (covaccine) স্বীকৃতি দিল অস্ট্রেলিয়া। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা কোভ্যাকসিনের দু'টি ডোজ নিলে এখন থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারবে। গত দেড় বছর ধরে বিদেশে যাওয়া-আসার ব্যাপারে অত্যন্ত কড়াকড়ি করেছে অস্ট্রেলীয় প্রশাসন। এবার কড়াকড়ি কিছু মাত্রায় শিথিল করা হল। এবার কোনও অস্ট্রেলীয় বিদেশ থেকে ফিরলে তাঁকে কোয়ারান্টাইন হয়ে থাকতে হবে না।
ভারতের কোভ্যাকসিন বাদে চিনের বিবিআইবিপি-কর ফাইভ নামে একটি ভ্যাকসিনকেও স্বীকৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সিনোফার্ম নামে এক সংস্থা ওই ভ্যাকসিন তৈরি করে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার জানিয়েছে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা চিনা ভ্যাকসিন নিলে অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে পারবেন। এশিয়ার বহু দেশেই ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে ভারত ও চিন। এবার ওই সব দেশের নাগরিকরাও অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারবেন। বিশেষত বহু বিদেশি ছাত্র ও দক্ষ কর্মী খুব শীঘ্রই অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাবেন।
চলতি সপ্তাহে কোভ্যাকসিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে হু-ও। গত এপ্রিল মাসে কোভ্যাকসিন সম্পর্কে হু-এর কাছে কয়েকটি তথ্য জমা দিয়েছিল কোভ্যাকসিনের নির্মাতা ভারত বায়োটেক। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার হু-এর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসারি গ্রুপ কোভ্যাকসিন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে চায়। হু-র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডায়রেক্টর জেনারেল মারিয়ানগেলা সিমাও বলেন, "ভারত বায়োটেক আগেও যথাযথভাবে আমাদের তথ্য দিয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর তারা শেষবার কোভ্যাকসিন সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য হু-এর সামনে পেশ করে।"
পরে সিমাও জানান, হু-এর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসারি কমিটি শেষবার বৈঠকে বসেছিল গত ২৬ অক্টোবর। তখনই ভারত বায়োটেকের কাছে বাড়তি কয়েকটি তথ্য চাওয়া হয়। আগামী ২ নভেম্বর ফের বৈঠকে বসছে টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসারি কমিটি। তখনই ভারত বায়োটেকের পেশ করা তথ্য নিয়ে ফের আলোচনা হবে। সিমাও বলেন, হু নিয়মিত ভারত বায়োটেকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
কয়েকমাস আগে ভারত বায়োটেক দাবি করে, কোভ্যাকসিন কোভিডের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকর। কোভিডের নতুন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রায় ৬৫.২ শতাংশ। ভারত বায়োটেকের কো-ফাউন্ডার সুচিত্রা এলা টুইটারে লিখেছেন, 'ভারতকে বিশ্বের মানচিত্রে বৈজ্ঞানিক সাফল্যের ভিত্তিতে পৌঁছে দিতে পেরে আমরা গর্বিত। কোভিডের বিরুদ্ধে কোভ্যাকসিন নিরাপদ। এই অতিমহামারী পরিস্থিতিতে যাঁরা আমাদের সাহায্য করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ।'
হু-এর মান্যতা না থাকার ফলে কোভ্যাকসিনকে নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। কেন্দ্রীয় সরকার যাতে এই বিষয়টির দিকে নজর দেয় তার অনুরোধ করেছেন মমতা।