দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝ সমুদ্রে ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডে কার্যত ধ্বংশ হয়ে গেল দু’টি প্রাকৃতিক গ্যাস বোঝাই জাহাজ। রাশিয়ার কার্চ প্রণালীর কাছে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে যায় দু'টি জাহাজে। ঘটনার সময় দু’টি জাহাজ মিলিয়ে মোট ৩২ জন ক্রু ছিলেন বলে খবর। প্রথমে ১১ জনের মৃত্য়ুর খবর মিললেও, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সমুদ্র থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। নিখোঁজ এখনও পাঁচ জন ক্রু।
জাহাজ দু’টির একটির নাম ক্যান্ডি, অপরটির নাম মায়েস্ত্রো। দু’টি জাহাজেই তানজানিয়ার পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছে। জাহাজে ছিলেন লিবিয়া, তুরস্ক ও ভারতের নাবিকরা। রাশিয়ার মেরিটাইম এজেন্সি সূত্রে খবর, মৃতদের মধ্যে ছিলেন ভারতীয় নাবিকেরাও। সেই সংখ্যা কত সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। দু’টি জাহাজ নামিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে রাশিয়ার নৌবাহিনী।
রাশিয়ার নিউজ চ্যানেল আরটি নিউজ সূত্রে খবর, দু'টি জাহাজের একটিতে ছিল গ্যাস বোঝাই ট্যাঙ্কার, অন্যটিতে এলএনজি গ্যাস বা লিউকিফাইড ন্যাচারাল গ্যাস। মনে করা হচ্ছে, একে অপরের থেকে জ্বালানি নেওয়ার সময়েই ট্যাঙ্কার থেকে গ্যাস লিক করতে শুরু করে। তারপরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে আগুন লেগে যায় দু’টি জাহাজেই। নিমেষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। ভিতরেই ঝলসে যান নাবিকরা। কয়েকজন প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দেন জলে।
ক্যান্ডি নামক জাহাজটিতে ছিলেন ১৭ জন ক্রু। তাঁদের মধ্যে ন’জন তুরস্কের ও আট জন ভারতের নাগরিক। মায়েস্ত্রো নামক জাহাজটিতে ছিলেন ১৫ জন ক্রু। তাঁদের মধ্যে সাত জন তুরস্কের, সাত জন ভারতের ও একজন লিবিয়ার নাগরিক। দূর থেকে দাউ দাউ করে জাহাজ জ্বলতে দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রাশিয়া মেরিটাইম এজেন্সির কর্মীরা। সমুদ্রে হাবুডুবু খাওয়া নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। তবে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে এখনও জাহাজে উঠে উদ্ধারকাজ শুরু করা যায়নি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
কার্চ প্রণালী মূলত রাশিয়া-ইউক্রেনের মূল বাণিজ্যপথ। জলপথে রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়া যাওয়ারও একমাত্র পথ এই প্রণালী। সোমবার এই দু'টি জাহাজই রাশিয়ার থেকে ক্রিমিয়ার দিকে যাচ্ছিল। সেখানেই দুর্ঘটনার মুখে পড়ে জাহাজ দু’টি।