দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার অমৃতসরের নিরংকারি ভবনে একটি জমায়েতের ওপরে গ্রেনেড ছোঁড়ে দুই দুষ্কৃতী । সেই ঘটনায় পাকিস্তানের যোগাযোগের নির্ভুল প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। কারণ, সেদিন যে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়েছিল, তা পাকিস্তানে তৈরি। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান।
ওই হামলায় তিনজন নিহত হন। আহত হন ২০ জন। গোয়েন্দারা প্রথমেই বলেছিলেন, এই ঘটনা ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। ব্যক্তিগত আক্রোশের বশে আক্রমণ করা হয়নি। বিশেষ কোনও ব্যক্তি হামলার লক্ষ ছিল না। নিরংকারিরা সকলেই ছিল আক্রমণের লক্ষ।
এদিন অমরিন্দর সিং বলেন, এর পিছনে আছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। খলিস্তান লিবারেশন টাইগার ফোর্সের প্রধান হরমিত পি এইচ ডি এই হামলার ছক কষেছিল। এর আগে ২০১৬-১৭ সালে পঞ্জাবের বেশ কয়েকজন ধর্মীয় নেতাকে খুনের দায়ে সে অভিযুক্ত। পাকিস্তান তাকে মদত দেয়।
রবিবারের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম বিক্রমজিত সিং। অবতার সিং নামে আর একজনের খোঁজ চলছে।
সেদিন যে এলাকায় জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তার নাম রাজাসানসি। প্রতি রবিবার সেখানে বহু মানুষ জড়ো হয়ে কীর্তন করেন। গত রবিবার প্রার্থনা কক্ষে জড়ো হয়েছিলেন ২৫০ জন। প্রথমে দুজন এসে বন্দুক বার করে তাঁদের ভয় দেখাতে থাকে। তারপর বোমা ছোঁড়ে ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ঘোষণা করেছিলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে । মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক কষ্ট করে পঞ্জাবে শান্তি ফিরিয়ে আনা গিয়েছে। কাউকে সেই শান্তি বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না।
তিনি ঘোষণা করেন, নিহতদের নিকটাত্মীয়রা ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবেন। আহতদের বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করা হবে ।
পঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সুনীল জাখার বলেন, পঞ্জাবের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে। প্রতিটি নিরাপত্তারক্ষী সংস্থাকে বলা হয়েছে সজাগ থাকতে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, হামলার ঘটনা কাপুরুষোচিত। কংগ্রেস নেত্রী রেণুকা চৌধুরী বলেন, সাংঘাতিক ঘটনা।
কিছুদিন আগে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেছিলেন, পঞ্জাবে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে জঙ্গিরা। তাদের ছক বানচাল করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
কিছুদিন আগে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে মাধোপুর অঞ্চলে চার দুষ্কৃতী একটি এসইউভি ছিনতাই করে। তারা গুরমুখী ভাষায় কথা বলছিল। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, তারা সম্ভবত জঙ্গি।