দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার পুর্নিয়ায় জেডি ইউ প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করতে গিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তিনি বললেন, "আজ আমি শেষবারের মতো ভোটে প্রচার করতে এসেছি। এর পরে আমি আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না।" এরপর তিনি বলেন, 'অন্ত ভালা তো সব ভালা।' যার শেষ ভাল, তার সব ভাল। নীতীশের সমালোচকরা অবশ্য বলেছেন, অতীতেও জেডি ইউ নেতা এমন চমকপ্রদ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ করেননি।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ওই ঘোষণা করার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পুরানো ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, নীতীশ বিজেপির উদ্দেশে বলছেন, "রহেঁ ইয়া মিট্টি মে মিল যায়েঙ্গে, আপ লোগোঁ কে সাথ কোই সমঝুতা নেহি হোগা।" অর্থাৎ তিনি বলছেন, আমি রাজনীতিতে থাকি বা না থাকি, আপনাদের সঙ্গে আর সমঝোতা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। দি চ্যাপটার ইজ ক্লোজড।
২০১৩ সালে বিজেপি ঘোষণা করে, পরের লোকসভা ভোটে তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখনই নীতীশ বিজেপির সঙ্গ ছাড়েন। পরে আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গ ছেড়ে তিনি ফের বিজেপি জোটে যোগ দেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এবার জীবনের সবচেয়ে কঠিন নির্বাচনে লড়ছেন নীতীশ। প্রচার পর্বে তিনি এমন কয়েকটি মন্তব্য করেছেন যা সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে স্থান পেয়েছে। কিন্তু রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা তিনি ঘোষণা করলেন প্রথমবার।
বুধবারই তিনি বিজেপির স্টার ক্যাম্পেনার তথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন।
যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, “মোদীজি অনুপ্রবেশ সমস্যার একটা সমাধান বার করেছেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন দিয়ে তিনি পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবেন। কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, যে অনুপ্রবেশকারীরা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চাইবে, তাদের দূর করে দেওয়া হবে। ভারতের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে যারা বিপদস্বরূপ, আমরা তাদের সহ্য করব না।” নীতীশ ওই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “কারা এমন আপত্তিকর কথা বলে? এসবই ফালতু বাত। কে মানুষকে তাড়িয়ে দেবে? কার অত সাহস হবে? এই দেশে সকলেরই থাকার অধিকার আছে। আমরা সকলেই ভারতীয়।”
এর আগে অযোধ্যায় ভূমিপূজন সম্পর্কে নীতীশের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অগাস্টে অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিষয়টি নিয়ে নানা মন্তব্য করে সব দলই। বাদ যায়নি বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপির শরিক হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি নীতীশ কুমার।