তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে নীচের তলার যে পুলিশ, তাদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া খুব মুশকিল। তারা সব রকমভাবে চেষ্টা করছে এখানকার সরকারি দলের দালালি করার।"

অধীর চৌধুরী
শেষ আপডেট: 13 April 2026 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী সহ তার টিম তিন দিনের সফরে রাজ্যে আসছেন (West Bengal Assembly Election 2026)। রাজ্যে, ভয়মুক্ত নির্বাচন করার বিষয়ে নিজেদের দায়বদ্ধতার কথা বার বার জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এই অবস্থায়, বহরমপুর বিধানসভায় ভোটের দিনের জন্য বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করলেন কংগ্রেস (Congress) প্রার্থী অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। পুলিশ প্রশাসনের উপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ভোটের দিন মানুষের ভোট দিতে কোনও সমস্যা হলে বা কেউ বাধা দিলে এই বিশেষ চারটি হেল্পলাইন সাহায্য করবে বকে জানিয়েছেন অধীর চৌধুরী।
তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) নীচের তলার যে পুলিশ (Police), তাদের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া খুব মুশকিল। তারা সব রকমভাবে চেষ্টা করছে এখানকার সরকারি দলের দালালি করার।" মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, "আমি মুর্শিদাবাদের কথা বলতে পারি। সব জায়গায় পুলিশ ইচ্ছা করে কংগ্রেসের লোকদের সঙ্গে অন্যায় করছে, অসহযোগিতা করছে।"
নির্বাচন কমিশনের উপরে আস্থা দেখাতে নারাজ অধীর বলেন, "জ্ঞানেশ ভারতী আসুক আর এখানে সুস্থ নির্বাচনের আরতি করুক, আমার জানার দরকার নেই।" যদিও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি। কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, "কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে নিশ্চয় ভরসা আছে। ভোটের দিন রংবাজি হতে দেবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।"
তাঁর দাবি, মানুষ যাতে ভোটকেন্দ্রে নিরবিঘ্নে আসতে পারেন এবং তাদের যাতে কেউ ভয় দেখাতে না পারে সেই জন্য দলের তরফে ব্যবস্থা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, "সর্বস্তরের মানুষ যাতে নির্বাচন কেন্দ্রে আসতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। তাই আমি নিজে হেল্পলাইন চালু করেছি আমার এলাকায়। চারটে হেল্পলাইন নম্বর রয়েছে। এর মাধ্যমে। বহরমপুর বিধানসভায় কোথাও কোনও মানুষের উপরে যদি রংবাজি হয় এবং বুথে আসতে ভয় দেখানো হয়, তাহলে দ্রুত তারা বলবেন এবং আমরা ব্যবস্থা নেব।"
তিনি বলনে, "নির্বাচনের দিন কোথাও যাতে দুর্বৃত্তরা অশান্তি করতে না পারে, ভয় ভীতি দেখিয়ে যাতে ভোটদা থেকে বিরত রাখতে না পারে, তাঁর জন্য আমি বিশেষ ভাবে নজর দিতে চাই। তাই প্রার্থী হিসেবে আমি হেল্পলাইন চালু করেছি। মানুষ জানালেই আমি দ্রুত ব্যবস্থা নেব।"
প্রসঙ্গত, প্রচারের ময়দানে যখন একে অপরকে টেক্কা দিতে ব্যস্ত শাসক-বিরোধী সব পক্ষ। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেনজির পোস্ট করে নজর কাড়ল নির্বাচন কমিশন (ECI)। দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) পেজ থেকে করা সেই পোস্টে একদিকে যেমন ভোটারদের অভয় দেওয়া হয়েছে, তেমনই অপরাধীদের উদ্দেশে ধেয়ে গিয়েছে কড়া বার্তা। আর সেই বার্তায় ‘বার্নল’ ও ‘বোরোলিন’-এর অনুষঙ্গ টেনেই শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।
পোস্টের ক্যাপশনে ভোটারদের উদ্দেশে লেখা হয়েছে, “সকল মা, বোন ও ভাইদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে।” এর পরেই সুর চড়িয়ে সমাজবিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখা হয়েছে, “কিছু লোক এতে জ্বলতে পারে। গুন্ডা, অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল ও বোরোলিন মজুত রাখুন। না হলে উত্তাপ এতটাই বাড়বে যে আপনারা পুড়ে যাবেন।”