দ্য ওয়াল ব্যুরো: উৎসবের মরসুমেও সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। গত ৬ মাসের মধ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে কম। কমল করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও। বড়দিনের পরে ভাল খবর শোনাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
সেপ্টেম্বরে সেই ৯০ হাজারের ধাক্কা কাটিয়ে দৈনিক সংক্রমণ এক লাফে ১৮ হাজারে নেমেছে। গত ৬ মাসে যা রেকর্ড। কিছুদিন আগেও ২৫ থেকে ৩০ হাজারের মধ্যে দৈনিক সংক্রমণ ঘোরাফেরা করছিল। এ দিন একেবারে ২০ হাজারের নিচে নেমে গেছে। করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা অক্টোবরের শেষ থেকেই কমছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে এখন করোনা অ্যাকটিভ কেসের হার ২.৭৪ শতাংশ। অ্যাকটিভ রোগী সংখ্যা তিন লাখের নিচে নেমে গেছে। যেভাবে সংক্রমণের হার কমছে তাতে ভাইরাস অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা খুব তাড়াতাড়ি ২ লাখে নেমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শীতের সময় ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়বে বলেই মনে করা হয়েছিল। কারণ সার্স-কভ-২ ভাইরাস শুষ্ক হাওয়ায় বেশিদিন টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ ভাইরাসের জীবনকাল বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে ট্রান্সমিশন রেট তথা ছড়িয়ে পড়ার হারও বাড়তে থাকে। তবে এই শীতে দেশে তেমন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
দেশে এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর তথা আর-নম্বরও একের নিচেই আছে। কিছুদিন আগেই আর-নম্বর কমে ০.৮৬ পয়েন্টে পৌঁছেছিল। এখন সেটাই কিছুটা বেড়ে ০.৯০ পয়েন্ট হয়েছে। আর-নম্বর কমে যাওয়া মানে সংক্রমণের হার কমে যাওয়া। তাই আশায় বুক বেঁধেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অক্টোবর মাসেও আর-নম্বর কিছুদিনের জন্য কমেছিল। ০.৮৮ পয়েন্টে থিতু হয়েছিল কয়েকদিন। তবে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশে সংক্রমণের হার ফের বেড়ে যাওয়ায় আর-নম্বরও বাড়তে শুরু করে। এক সময় একের ওপরে উঠে যায়। দেশে দৈনিক সংক্রমণের কার্ভও বাড়ে। একটা সময় দেশের দৈনিক সংক্রমণ ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দিল্লিত করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পরেও আর-নম্বর ওঠানামা করছিল। গত সপ্তাহে এই আর নম্বরই বেড়ে ০.৯২ পযেন্টে পৌঁছেছিল, পরে আবার ০.৯১ পয়েন্টে নেমে যায়। এখন ০.৯০ পয়েন্টে থিতু হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর-নম্বর একের নিচে থাকায় সংক্রমণের হার বিশেষ বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
দিল্লিতে সংক্রমণের হার আরও কমেছে। করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পরে সংক্রমণের হার এক ধাক্কায় ১২ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। পরে তা কমে সাড়ে আট শতাংশে পৌঁছয়। গত সপ্তাহে সংক্রমণের হার সাত শতাংশে নেমে যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলছে, গত কয়েকদিনে দিল্লিতে কোভিড পজিটিভিটি রেট তথা সংক্রমণের হার আরও কমে পাঁচ শতাংশে পৌঁছেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনে পাঁচ শতাংশেরও নিচে নেমে যায় সংক্রমণের হার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এখন একমাত্র চিন্তা করোনার নতুন স্ট্রেন। ব্রিটেন ফেরত প্রায় ২০ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে বিজয়ওয়াড়ার এক মহিলা ও নাগপুরে একজন করোনা রোগীর শরীরে নতুন স্ট্রেন আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, এখনই ভয়ের এতটা কারণ নেই। সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে টিকাকরণ শুরু করতে পারে সেরাম ইনস্টিটিউট। ভারত বায়োটেকও তাদের কোভ্যাক্সিন টিকার জন্য জরুরি প্রস্তাব দিয়েছে। এই টিকাও সুরক্ষার সব পরীক্ষায় পাশ করেছে বলে খবর। মানুষের শরীরেও টিকা দুর্দান্ত কাজ করেছে বলে দাবি করেছে ভারত বায়োটেক।