মৃত্যুমিছিল কোটার সরকারি হাসপাতালে, ৪৮ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, সংখ্যা ছুঁল ১০২
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক শিশুমৃত্যু। রাজস্থানের কোটার জেকে লোন হাসপাতালে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। গত দু’দিনে এই হাসপাতালে আরও ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গোটা ডিসেম্বর মাসজুড়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২।
গত ২৪-২৫ ডিসেম্বর ১০টি শিশ
শেষ আপডেট: 1 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একের পর এক শিশুমৃত্যু। রাজস্থানের কোটার জেকে লোন হাসপাতালে মৃত্যুমিছিল অব্যাহত। গত দু’দিনে এই হাসপাতালে আরও ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গোটা ডিসেম্বর মাসজুড়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২।
গত ২৪-২৫ ডিসেম্বর ১০টি শিশুর মৃত্যু হয় কোটার এই সরকারি হাসপাতালে। ফের ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর ৯টি সদ্যোজাতের মৃত্যুর খবর মেলে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, জন্মের পরে কম ওজন, সদ্যোজাতের শারীরিক দুর্বলতা ও নিউমোনিয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে এই শিশুদের। জেকে লোন হাসপাতালে একের পর এক শিশুমৃত্যু ফিরিয়ে এনেছে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে বিআরডি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের স্মৃতি। ফের সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর অভাব ও চিকিৎসকদের গাফিলতির দিকেই আঙুল উঠেছে।
হাসপাতালে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে পৌঁছেছে ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অব চাইল্ড রাইটসের (NCPCR) একটি দল। জেকে লোন হাসপাতালের সুপার ডাক্তার সুরেশ দুলারা বলেছেন, “৩০ ডিসেম্বর ৪টি ও ৩১ ডিসেম্বর ৫টি সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। জন্মানোর পরেই ওই শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। নিউমোনিয়া ধরে গিয়েছিল। হাসপাতালের পরিকাঠামোয় কোনও গলদ নেই। “
হাসপাতালে অবিলম্বে সেন্টারল অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের জন্য আবেদন করেছেন সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাক্তার বিজয় সারদানা। তিনি বলেছেন, আগামী ১৫দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।

বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে শিশুমৃত্যুর বিভিন্ন ঘটনা আগেও সামনে এসেছে বহুবার। ২০১৭ সালে গোরক্ষপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে একসঙ্গে ৭০টি শিশুর মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশকে। এক মাসে সেখানে মারা গিয়েছিল মোট ২৯০টি শিশু। রাজস্থানে বাঁসবাড়ার এমজি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল ২৩৬টি শিশুর। প্রত্যাশিত ভাবেই জেকে লোন হাসপাতালের শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ঘটনা সরব হয়েছেন বিরোধীরা। হাসপাতালের পরিকাঠামোর দিকে আঙুল তুলেছে এনসিপিসিআর। তাদের তরফে বলা হয়েছে, হাসপাতালের শিশু বিভাগের অবস্থা খুবই খারাপ। একটা বেডে তিন-চার জন শিশুকে ঘেঁষাঘেঁষি করে শুইয়ে রাখা হয়। চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম। হাসপাতাল চত্বরে আবর্জনার স্তূপ জমে আছে।