দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাতে দোকান বন্ধ করার সময় সিগারেট চেয়েছিল দুই খদ্দের। দোকানের কর্মচারী সিগারেট দিতে অস্বীকার করেন। তখন তাঁর ওপরে ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দু'জন। দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ এলাকার ঘটনা। দোকানের কর্মচারীর নাম ইজাজ। তাঁর বয়স ২৪। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুই খদ্দেরের নাম সাকিব খান (১৯) ও আবদুল হান্নান (৩০)। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে একটি চেক পোস্টে কয়েকজন পুলিশকর্মী পথচলতি গাড়িগুলির রুটিন চেকিং করছিলেন। এমন সময় তাঁরা ঝগড়ার আওয়াজ পান। দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন ইজাজ। ঘটনাস্থল থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ইজাজকে নিয়ে যাওয়া হয় এইমসের ট্রমা সেন্টারে। পরে অপর অভিযুক্তও ধরা পড়ে।
ইজাজ পরে জানান, তিনি জামাইবাবুর দোকানে কাজ করেন। জামাইবাবুর নাম আমির। শুক্রবার সন্ধ্যায় হান্নান তাঁদের দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে যায়। পরে এক বন্ধুর সঙ্গে ফের দোকানে আসে হান্নান। সে ফের সিগারেট কিনতে চায়। ইজাজ বলেন, দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন আর সিগারেট দেওয়া যাবে না। তখন হান্নানদের সঙ্গে ইজাজের বচসা শুরু হয়। হান্নানরা ইজাজকে মারতে শুরু করে। সাকিব খান ছুরি বার করে ইজাজের পেটে বিঁধিয়ে দেয়। পরে তাঁর হাতেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে সাকিব।
পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (সাউথ ইস্ট) আর পি মিনা বলেন, "জেরায় দুই অভিযুক্ত স্বীকার করেছে, ইজাজ সিগারেট দিতে না চাওয়ায় তারা মেজাজ হারিয়ে ফেলে। ইজাজের জামাইবাবুকে তারা মারধর করে। ইজাজের পেটে ছুরি বিঁধিয়ে দেয়।"
এর আগে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, কোভিড অতিমহামারীর মধ্যে শহরে কমেছে অপরাধ। তথ্য বলছে, মার্চের ১৫ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ অবধি ১,৯৯০ টি অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছিল। গত বছরে ঠিক এই সময়ে, এই ক’দিনে জমা পড়েছিল মোট ৩,৪১৬টি অভিযোগ। সব মিলিয়ে নিশ্চিত ভাবেই কমেছে অপরাধের সংখ্যা।
আগের বছর যেখানে ১৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল ২৩৫টি, সেখানে এ বছর ১০৮টি ডাকাতির ঘটনা সামনে এসেছে। ছিনতাইয়ের অভিযোগ জমা পড়েছিল ২৯৪টি, এ বছর সে জায়গায় হয়েছে ১৮১টি। মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা এই বছরে ঘটেছে ৭২টি, আগের বছর এই সংখ্যাটা ছিল ১৯৪। অপহরণের ঘটনাও ২৫৯টির বদলে ঘটেছে ১৫০টি।