
শেষ আপডেট: 30 April 2023 09:17
কথাতেই আছে মাছে ভাতে বাঙালি। আজ এই মাছ তো কাল ওই মাছ। আর সেই মাছ যদি মিলেমিশে যায় বাঙালির আরও একটি অন্যতম প্রিয় খাবার কচুরিতে। তাহলে তো কেল্লা ফতে! উত্তর কলকাতার (North Kolkata's hidden gem) শ্যামবাজারের একটি ছোট্ট দোকান নীলাচল। যেখানে গেলেই পেয়ে যাবেন গরম গরম মাছের কচুরি (fish kochuri)। নাম শুনলেই জিভে জল আসতে বাধ্য। দোকানটি বেশি পুরনো না হলেও বিখ্যাত (famous) মাছের কচুরির জন্য বহু দূর থেকে মানুষ আসে এখানে খেতে।

মাছের কচুরি মানে যে সে মাছ নয়। রীতিমত বাঙালির প্রিয় ভেটকি মাছের কচুরি। শ্যামবাজার বা বাগবাজার চত্বরে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই জেনে যাবেন নীলাচলের ঠিকানা। এই দোকানে অবশ্য মাছের কচুরি ছাড়াও পেয়ে যাবেন বিভিন্ন চাইনিজ আইটেম, বাঙালি পদ্ধতিতে বানানো পোলাও আর কষা মাংস, বিভিন্ন কাবাব, ফিশ ফ্রাই, মোগলাই পরোটা আরও কত কী! মাছের কচুরির সঙ্গে বেছে নিন নিজের পছন্দের যে কোনও একটি আইটেম।


দোকানে ঢোকার মুখেই দেখতে পাবেন উত্তর কলকাতার জমকালো আড্ডা দেওয়ার একটা আবহ আছে। গরম কচুরি বা ফিশ ফ্রাই হাতে নিয়ে দোকানের বাইরে পেতে দেওয়া বেঞ্চের উপর বসে পড়ছেন সবাই। নীলাচলের কর্ণধার জানান ১৯৮২ সালে প্রথম তাঁর বাবার হাত ধরে শুরু হয় এই মাছের কচুরির যাত্রা। ব্যাস, সেই যে শুরু তা বংশ পরম্পরায় আজও একইভাবে চলছে। এমন দোকান দুটি রয়েছে। একটি দোকানে ভেতরে বসে খাওয়ার জায়গা না থাকলেও মানুষকে কিন্তু আটকানো যায় না। বাইরে বেঞ্চে বসে গল্প করতে করতেই কচুরি খাচ্ছেন লোকজন। অন্য একটি দোকানে রয়েছে ভেতরে বসে জমিয়ে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। সেটাও বাগবাজার বাটার কাছেই।


এবার জানাই পদটির হালহকিকত। কচুরির মধ্যে মশলা মাখানো বেশ খানিকটা ভেটকি মাছের পুর ভরা। খেতে চাইলে চোখের সামনে বেলে ছাঁকা তেলে ভেজে আলুরদম আর সালাডের সঙ্গে পরিবেশন করছেন। দামটাও কিন্তু নেহাতই কম। ৪০ টাকায় দুটো কচুরি খেয়ে নিলে পেট বেশ ভরে যাবার কথা। সঙ্গে যদি নিয়ে নেন একটা ফিশ ফ্রাই বা মোগলাই পরোটা তাহলে রাতে বাড়ি গিয়ে খাওয়ার কোনও প্রয়োজনই থাকবে না।
শুভস্য শীঘ্রম! একদিন বিকেলটা বাগবাজার ঘাটে কাটিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যান নীলাচলে। আর সন্ধ্যার উত্তর কলকাতার আমেজ নিতে নিতে নীলাচলের মাছের কচুরির সঙ্গে পরিচয় পর্বটা সেরে ফেলুন। সময়টা বাজে নষ্ট হবে না সেটা নিশ্চিত।
পিৎজা আইসক্রিম খেয়েছেন কখনও! এমনই আরও ১৭ নতুন ফ্লেভার এবার পাওয়া যাবে শহরে